বাজেটে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০২০, ১৭:১৪

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ বছরের বাজেট প্রণয়নের আহবান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই)। যাতে সরকার, সাধারণ জনগণ এবং বেসরকারিখাত এই অবস্থা উত্তরণে সহায়ক নীতিমালা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সুফল পেতে পারে।

বুধবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ‘২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য এনবিআরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দেয়। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআর কার্যালয়ে এসব প্রস্তাবনা এনবিআরের সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেনের কাছে তুলে দেন ডিসিসিআইর সভাপতি শামস মাহমুদ। যেখানে ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব ছিল।

ডিসিসিআই রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন বাড়াতে ও রপ্তানি বহুমুখীকরণকে উৎসাহিত করতে শিল্পপণ্য উৎপাদনে সবধরনের কাঁচামাল ও মেশিনারিজের ওপর অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের ডিজাইন এবং ডামি সেন্টার, স্যাম্পল, ইটিপি, জ্বালানি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতিরও প্রস্তাব করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ প্রগেসিভ হারে সকল স্তর থেকে করপোরেট কর হার আগামী ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে ৫%, ৭% ও ১০% হারে হ্রাস করা, করপোরেট ডিভিডেন্ডের আয়ের ওপর ২০% এর পরিবর্তে ১০% কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেন। তিনি মনে করেন, এতে হ্রাসকৃত করপোরেট ট্যাক্স পুনঃবিনিয়োগ করা হলে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ কর আহরণের নতুন উৎস সৃষ্টি হবে।

এছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার কর মুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা এবং ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর সর্বনিম্ন হার ১০% থেকে ৫% এ হ্রাস করার প্রস্তাব করেন, ডিসিসিআই মনে করে বর্তমান মূদ্রাস্ফীতির হার ও বর্ধনশীল জীবনযাপনের ব্যয় বিবেচনায় রেখে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি কর প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও করের আওতা বৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণ অটোমেটেড অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেয়ার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করেন, যার ফলে দেশের কর প্রদান ব্যবস্থা সহজ হবে এবং ব্যবসার পরিবেশ সূচক উন্নয়নে এটি কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। ডিসিসিআইর সভাপতি, ১৫% হারে ভ্যাট প্রদান করলে কর রেয়াত নেওয়ার সুযোগ প্রদানের পরিবর্তে ৫%, ৭ দশমিক ৫%, ১০% অথবা যে কোন হারে ভ্যাট প্রদান করলে কর রেয়াতের সুযোগ প্রদানেরও প্রস্তাব করেন। শিল্পায়নের ধারাকে বেগবান করার জন্য রপ্তানিমুখী শিল্পপণ্য উৎপাদন বাড়াতে ও রপ্তানিবহুমুখীকরণকে উৎসাহিত করতে শিল্পপণ্য উৎপাদনে সবধরনের কাঁচামাল ও মেশিনারিজের ওপর অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের ডিজাইন এবং ডামি সেন্টার, স্যাম্পল, ইটিপি, জ্বালানি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করেন।

এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বার্ষিক টার্নওভারের লিমিট তিন কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে চার কোটি টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করে সংগঠটি। পণ্যের ভ্যালু এডিশন বা মুনাফা অনুপাতে ৪% ভ্যাট আরোপেরও প্রস্তাব করেন।

বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণের আওতা এবং মান বৃদ্ধি করতে সঞ্চালন ও বিতরণ-এ বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান এবং বিদ্যুৎ খাতের আমদানি বিকল্প ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পসমূহকে উৎসাহিত করতে বেসরকারি খাতকে সাব-স্টেশন যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনে কর অবকাশ সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করেন।

এসময় ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এন কে এ মবিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২৫মার্চ/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :