করোনা: ঘরে বসে দেখুন মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র

বিনোদন প্রতিবেদক
  প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২০, ১২:৪৫
অ- অ+

১৯৭১ সাল। বাঙালি জাতির জীবনে একটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের বছর। ত্রিশ লাখ শহীদ এবং হাজারো মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এসেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। মহান সেই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে এ যাবত বহু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে করোনা আতঙ্কে ঘরবন্দি বহু মানুষ। তাই ঘরে বসে স্বাধীনতা দিবসে দেখতে পারেন মুক্তিযুদ্ধের সাড়া জাগানো কয়েকটি চলচ্চিত্র।

ওরা এগারো জন: মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র এটি। ১৯৭২ সালে এই ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন প্রয়াত চাষী নজরুল ইসলাম। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষনের কিছু অংশ দেখানো হয়েছিল এতে। ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, খসরু, সৈয়দ হাসান ইমাম ও খলিলউল্লাহ খানসহ অনেকে।

অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন বিখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্ত। এর তিনটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা ববিতা, নায়ক উজ্জল ও আনোয়ার হোসেন। বিষয়বস্তুগত দিক থেকে এই ছবিটিকে সে সময় একেবারেই অন্যরকম বলে মন্তব্য করেছিলেন বুদ্ধিজীবীরা।

আলোর মিছিল: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৪ সালে। এটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতা। এই ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, ববিতা, রাজ্জাক ও সুজাতা।

আগুনের পরশমণি: ১৯৯৪ সালে এই ছবিটি নির্মিত হয় প্রয়াত কথাসাহিত্যিক, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের হাতে। সরকারি অনুদানে তৈরি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ ছবিটি আটটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন আসাদুজ্জামান নূর। আরো ছিলেন বিপাশা হায়াত, আবুল হায়াত, ডলি জহুর ও হুমায়ূন কন্যা শিলা আহমেদ।

হাঙ্গর নদীর গ্রেনেড: সেলিনা হোসেনের রচিত মুক্তিযুদ্ধের গল্প ‘হাঙ্গর নদীর গ্রেনেড’ অবলম্বনে ১৯৯৭ সালে একই নামে ছবি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম। এই ছবিতে রয়েছে একজন সন্তানহারা মায়ের গল্প। যে চরিত্রটি করেছিলেন চিত্রনায়িকা সুচরিতা। এছাড়া ছবির বিভিন্ন চরিত্রে আরও আছেন সোহেল রানা, অরুনা বিশ্বাস, অন্তরা ও ইমরান।

মুক্তির গান: প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা প্রামাণ্য চিত্র এটি। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। এটি দক্ষিণ এশিয়া চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিশেষ উল্লেখ পুরস্কার এবং ২০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কার লাভ করে।

এখনো অনেক রাত: ১৯৯৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল এই ছবিটি। এটি পরিচালনা করেন খান আতাউর রহমান। এটি তার পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের পরের সময়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, সুচরিতা, আলীরাজ, ববিতা ও পরিচালকের ছেলে কণ্ঠশিল্পী আগুন।

শ্যামল ছায়া: হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ছবি এটি। মুক্তি পেয়েছিল ২০০৩ সালে। এই ছবিতে মুক্তিযোদ্ধা চরিত্রে দেখা গিয়েছিল প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদিকে। আরো ছিলেন নায়ক রিয়াজ, মেহের আফরোজ শাওন, স্বাধীন খসরু, শিমুল, চ্যালেঞ্জার, ফারুক আহমেদ, ডা. এজাজ ও তানিয়া আহমেদ।

জয়যাত্রা: এটি মুক্তি পেয়েছিল ২০০৪ সালে। প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের কাহিনি নিয়ে এই ছবির সংলাপ, চিত্রনাট্য লেখা ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন তৌকীর আহমেদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন একদল মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, মৃত্যু ও বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প আছে এখানে। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম, বিপাশা হায়াত, মাহফুজ আহমেদ, হুমায়ূন ফরীদি, তারিক আনাম খান, আবুল হায়াত ও চাঁদনী।

গেরিলা: নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিটিতে অভিনয় করেন সহস্রাধিক শিল্পী। প্রধান চরিত্রে ছিলেন জয়া আহসান ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস। আরও আছেন এটিএম শামসুজ্জামান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী ওয়াদুদ, শম্পা রেজা ও গাজী রাকায়েত।

ঢাকাটাইমস/২৬মার্চ/এএইচ

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পদোন্নতি না পেয়ে পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলী আকবর?
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি
ডিবি উত্তরা বিভাগের ডিসি হলেন ইলিয়াস কবির
ঢাকার সড়কে এআই নজরদারিতে এক মাসে ৬৭২ মামলা, মোট জরিমানা প্রায় ৯ কোটি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা