ঘরে ফেরানো যাচ্ছে না তাদের!

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ১৪:১৫ | প্রকাশিত : ৩০ মার্চ ২০২০, ১৩:৫১

করোনা সংক্রমণ রোধে জনমাগম বন্ধ করতে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারের নির্দেশে দেশে কার্যত লকডাউন চলছে। এই সময়ে সবাইকে যখন নিজ দায়িত্বে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘরে থাকার পরামর্শ আসছে, ঠিক তখনই রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় জনসমাগম বেড়েই চলেছে। নিষেধাজ্ঞার দুদিন না যেতেই ঘর ছেড়ে রাস্তায় বের হয়েছে মানুষ।

সরেজমিনে রাজধানীর খিলগাঁও, বাসাবো, মুগদা, মান্ডা, মানিকনগর, গোপীবাগ রেলওয়ে বস্তিসহ বেশিকিছু জায়গায় অস্বাভাবিক জনসমাগম দেখা গেছে। বিশ্বজুড়ে করোনা কালোছায়া যখন ঘনীভূত হয়ে আসছে, তখনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কবাণী কানেই তুলছেন না এসব এলাকার বাসীন্দারা।

কোহিনুর বেগম মান্ডা হায়াদার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কাঁচাবাজারে বেশ লোক সমাগম দেখা গেল। করোনা আতঙ্কের মধ্যে এমন ভিড় ঠেলে বাজার করার কারণ জানতে চাইলে এক গৃহীনি বলেন, ‘এই এলাকায় এর চেয়ে কম মানুষ কেমনে পাইবেন? মানুষ ভয়ে ঘরেত্তে বাইর হয় না, তাই কম ভিড়। আর কি করুম, ঘরে থাকলে বাজার সদাই করমু কেমনে? এইডাতো গুলশান বনানী না।‘

কিন্তু করোনা একটি ভয়াবহ ভাইরাস এর থেকে বাঁচতে হলেতো একটু সাবধান থাকতে হবে বলার পর কোহিনুর বেগম তা কানেই তুললেন না। বলেন, এতো ভয় পাইলে চলবো? জীবনতো আর থাইমা থাকব না।’ আবার সবজি কিনতে মনোযোগী হন তিনি।

শুধু কোহিনুরই নয়, এই বাজারে প্রত্যেকেই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বাজার করছেন। করোনা নিয়ে নির্বিকার সবাই।

মদিনাবাগ বাজারের এক কোণে সবজি বেচেন ওয়াসিম। এতো ভিড়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের ভয় করে না- এমন প্রশ্নে এই বিক্রেতা বলেন, স্যার বেচা বিক্রি না করলে খামু কি? ভয়তো করে। কিন্তু দোকানতো বন্ধ করতে পারি না। ডেইলি ইনকাম দিয়া সংসার চলে, ঘর ভাড়া দেই, তাই আসন লাগে। অন্য কোনো কামওতো নাই যেইহানে ভিড় নাই।

মুগদার বাসার টাওয়ার সংলগ্ন মদিনাবাগ বাজারের মতো একই অবস্থা মানকিনগর, খিঁলগাও গোপীবাগের। এসব বাজারে সকাল বিকাল দুই বেলায় ক্রেতার উপচেপড়া ভিড় থাকে। অথচ প্রতিটি বাজারের পাশেই কোনো না কোনো থানা বা পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। শৃঙ্খলা ফেরাতে আইন প্রশাসনের তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মানুষ।

আলী আহাসন নামের এক সাবেক শিক্ষক বলেন, করোনায় রীতিমতো চমকে যাচ্ছি, সাড়ে সাতলাখ মানুষ আক্রান্ত চৌত্রিশ হাজার মানুষ মারা গেছে প্রতিদিন দেড় থেকে দণন হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। আমাদের দেশে করোন প্রকট হয়ে উঠলো অন্তত ঢাকাকে রক্ষা করা যাবে না। এমন বিপদেও মুগদা এলাকার মানুষ রাস্তায় ঘোরফেরা করছে, এরা নিজেরা বিপদে যতটা না পড়বে তারচে বেশি বিপদে ফেলবে আমাদেও, মানুষের অবাদ বিচরণে করোনার সামাজিক সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

করোনার ভয়াবহতায় মুগদা-মান্ডাসহ আওতাধীন এলাকা মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ প্রলয় কুমার রায়কে এসব এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, এই এলাকগুলো খুব ঘনবসতিপূর্ণ। তারপরও আমরা চব্বিশ ঘণ্টা টহল পুলিশ দিয়ে উিউটি করাচ্ছি জনসমাগম কমাতে।

তিনি বলেন, খালি রাস্তা বা ছোট খাটো ইনসিডেন্টেও এসব এলাকায় চার পাঁচ শ লোক জড়ো হয়ে যায়। আমরা রাস্তা থেকে লোক সড়িয়ে ঘাড় ঘুরাতে ঘুরাতে দেখি আবারও রাস্তা ভড়ে গেছে। বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের মানুষ থাকে এসব এলাকায়। তাই সচেতনতা নেই। এরা এর ভয়াবহতা আন্দাজ করতে পারছে না। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি। লোকাল কাউন্সিলরদেও নিয়ে কাজ করছি।

বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষাণা হওয়া করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ২২ হাজার ১৯৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের। সরকারি হিসেবে বাংলাদেশে নতুন করে আরও একজনসহ মোট ৪৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৯জন।

ঢাকাটাইমস/৩০মার্চ/এসআর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :