করোনা থেকে ধনী-গরিব কেউ বাঁচবে না

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৪৬ | প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১৭:১৭

দিনদিন বাংলাদেশে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সবাই সচেতন না হলে এটা আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে। এই অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপি সরকারের সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকেও নিয়ম মেনে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান করেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘২০০১-২০০৬ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলাম। তখন বিভিন্ন সময় বিটিভিতে প্রতি সপ্তাহে দেশবাসীর উদ্দেশে কথা বলতাম। এখন যখন করোনা বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করেছে তখন দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই মনে করি এ নিয়ে কথা বলা দরকার। কারণ পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে করোনা।’

তিনি বলেন, ‘উহান থেকে এর শুরু হয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে দেড়লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত। মারাও গেছে অনেকে। বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশগুলোও পরাজিত হয়েছে করোনার কাছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তাদের সব চেষ্টা শেষ। এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। অর্থাৎ ক্ষমতাধর দেশগুলো অনেকটা অসহায়।’

সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা কিছুটা হলেও ভালো। প্রস্তুতিও ভালো। আইইডিসিআর প্রতিনিয়ত করোনার আপডেট দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৫৪ জন আক্রান্ত ও ছয়জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে। এই সংখ্যাটি খুব বেশি না হলেও বুঝতে হবে এটা কিন্তু মাত্র ১৩ শ মানুষের পরীক্ষার ফলাফল। এই সংখ্যাটি সারাদেশের মানুষের পরীক্ষার ফল নয়। ( ভিডিও বার্তাটি প্রচারের সময় পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান ছিল। বর্তমানে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬১ জন। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়েনি।)

সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা গেলে এই ভাইরাসের হাত থেকে অনেকটা মুক্তি মিলতে পারে এজন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা ছুটি দেয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা শুরু করেছি। কিন্তু এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, আমরা বিলম্বে শুরু করেছি। কারণ ৭ মার্চ সরকার প্রথম করোনা ভাইরাসের বিষয় কথা বলে। কিন্তু উহানে গত ডিসেম্বরে এটা শুরু হয়েছে। চীনের সঙ্গে আমাদের ভৌগলিক দূরত্ব খুব বেশি নয়। কিন্তু এই তিনমাসের মধ্যে আমরা সেইভাবে প্রস্তুতি নেইনি। বিমানবন্দর খোলা থাকায় পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাত লাখের মতো মানুষ এসেছে বিভিন্ন দেশ থেকে। ধারণা করা হচ্ছে তাদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। আইইডিসিআর বলছে, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। এটা ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি করবে।’

তিনি বলেন, ‘দেরীতে হলেও প্রস্তুতি নিয়েছে ঠিক কিন্তু আমাদের এখানে টেস্টের জন্য কিটের স্বল্পতা আছে। কারণ শুরুতে আমাদের মাত্র ১৭শ কিট ছিলো। ফলে একমাত্র আইইডিসিআর যত টেস্ট করা দরকার তা করতে পারেনি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষার উপর জোর দেয়ার জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা আসলে সেইভাবে ‍গুরুত্ব দিতে পারিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত পিপিই দিতে পারিনি। ফলে তারা কিন্তু চিকিৎসা দিচ্ছে না। সাধারণ রোগিদের কাছে যাচ্ছে না। তারাও ভয়ে আছে। কেউ তো নিশ্চিত না কে ভালো আর কে আক্রান্ত। বিশ্বের অনেক জায়গায় তো চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা মারা গেছে সংক্রমিত হয়ে। তাই যতদ্রুত সম্ভব সুরক্ষা সরঞ্জাম তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। যে সব হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রস্তুত করার কথা বলা হচ্ছে সেখানেও ভেন্টিলেটারসহ সব ধরণের যন্ত্রপাতি নেই। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে এসব যন্ত্রপাতির অভাব আছে। তবে আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম আছে। এগুলো না হলে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে না।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘গণমাধ্যমে এসেছে সাধারণ সর্দি, কাঁশি তথা শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া রোগীদের কোনো পরীক্ষা করা হয় না। আমাদের দুঃশ্চিন্তা সেখানেই। এখানেও কিন্তু যন্ত্রপাতির অভাব ফুটে উঠেছে।’

করোনার মধ্যে ডেঙ্গু নিয়েও সামনে বিপদ আসতে পারে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছি তখন ডেঙ্গু দরজায় কড়া নাড়ছে। এটাও কিন্তু চিন্তার বিষয়। গতবছরে কিন্তু এক লাখের মতো মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। অনেকে মারাও গেছে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যারা মশার ওষুধ দেবেন তারাও অনেকে ঘরের মধ্যে। কারণ তাদের সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে না। তাই এখনই যদি ব্যবস্থা না নেই তাহলে ডেঙ্গু আগামীতে বড় ধরণের আক্রমণ করতে পারে।’

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দম্ভ, অহংকার, সকল ধরণের প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে সরকারকে বলবো সবাইকে নিয়ে আসুন একসঙ্গে করোনা মোকাবেলা করি। যত দ্রুত সম্ভব আসবে, মজুদ আছে এসব না করে করোনার পরীক্ষার কিট, ভেল্টিলেটারসহ অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা। আর ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষার জন্য মশা নিধনের ব্যবস্থা করুন। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র এখনই নিধন করার কাজ করুন। মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাবো।’

সবাইকে নিজের এবং পরিবারের স্বার্থে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আতঙ্কিত না হয়ে করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরে থাকুন। আল্লাহর উপর ভরসা রাখি। তিনি বলেছেন আমাদের পরীক্ষা করার জন্য নানা রোগ, বিপদ দিয়ে থাকি। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সময়ে আমাদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে একা একা আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। কারণ ভারতে তাবলীগ জামাতের অনেক লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনের রানী থেকে শুরু করে অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। আজকে ধনী, গরিব কেউ এখান থেকে বাঁচবে না। তাই নিজেদের জন্য ঘরে থাকুন।’

অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/৩ এপ্রিল/বিইউ/ এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :