গাড়িতে প্রাণী খাদ্যের স্টিকার লাগিয়ে অস্ত্র-মাদকের কারবার

নিজস্ব প্রতিবদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ মে ২০২০, ১৬:৫৮

কক্সবাজার থেকে গডফাদারদের টাকা ও পরিবহন সহযোগিতা নিয়ে অস্ত্র ও ইয়াবা ঢাকায় এনে সরবরাহ করত একটি চক্র। এছাড়াও কক্সবাজার থেকে অস্ত্রের চালান এনে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করার জন্য চড়া দামে বিক্রি করত। এমন ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো. ওসমান, শাহজাহান সরকার, সেলিম সরকার ও নুর ইসলাম। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে দুইটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ছয় রাউন্ড গুলি ও সাতহাজার পিস ইয়াবা এবং একটি গাড়ি জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-২ এর একটি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদ মাধ্যমে র‌্যাব জানতে পারে যে, কক্সবাজার থেকে কাঁচামাল পরিবহনের আড়ালে মাদক ও অস্ত্রের চালান পাচার করার উদ্দেশ্যে কিছু অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী একটি মাদক ও অস্ত্রের চালান নিয়ে ঢাকার এক মাদক সম্রাট ও অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছে দিতে আসছে। এমন খবর পেয়ে গাড়ির গতিবিধি জেনে আদাবর থানার রিং রোডের হক সাহেবের মোড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি তল্লাশি চৌকি বসিয়ে সন্দেহভাজন গাড়ি ও তার যাত্রীদের তল্লাশি করতে থাকে। এ সময় কাঁঠাল ও ডাব ভর্তি একটি পিকআপে চারজনকে সন্দেহজনক হলে তাদের থামানো হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসা করলে কক্সবাজার থেকে এসেছে জানায়।

র‌্যাব-২ এর ওই সূত্রটি জানায়, র‌্যাবের তল্লাশি চৌকির আশেপাশের স্থানীয় সাক্ষীদের সামনে পিকআপে থাকা চারজন ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে তাদের মধ্যে দুইজনের পিঠে থাকা ব্যাকপ্যাক ব্যাগ তল্লাশি করে দুইটি দেশি বন্দুক, ছয় রাউন্ড গুলি ও চার জনের প্রত্যেকের কাছ থেকে মোট সাত হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ও অস্ত্র, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বিহীন স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য হেফাজতে রাখায় তাদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় অস্ত্র আইন ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুইটি মামলা করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃত মো. ওসমান, সেলিম সরকার গাজীপুর জেলার কাপাশিয়া থানা এলাকায়, শাহজাহানের একই জেলার বাসন থানার আদিপাশা গ্রামে এবং নুর ইসলামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার গাইরাগুটি গ্রামে।

র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী ঢাকাটাইমসকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের গডফাদারদের টাকা ও পরিবহনের সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে জব্দকৃত পিকআপটিতে সাদা কাগজে জরুরি প্রাণী খাদ্য উৎপাদন কাজে নিয়োজিত স্টিকার লাগিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান আনা নেওয়া করত। তারা সেগুলো ঢাকা ও গাজীপুরে সরবরাহ করত। অস্ত্র পাচারের ব্যাপারে আসামিরা র‌্যাবকে জানিয়েছে, নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালানোর মাদক ব্যবসায়ীদের চাহিদামত কক্সবাজার থেকে অস্ত্রের চালান নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করত।

মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন,গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জানায়, কক্সবাজার থেকে রওনা করার সময় তাদের সামনে প্রাইভেটকার যোগে একটি এসকর্ট পার্টি থাকে। রাস্তায় তল্লাশি চৌকি থাকলে বা গাড়ি তল্লাশি হলে এসকর্ট পার্টি সামনে থেকে সতর্ক করে দেয়।

(ঢাকাটাইমস/২২মে/এএ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত