‘জলাবদ্ধতার জন্য শুধু সিটি করেপোরেশন দায়ী নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ৩০ মে ২০২০, ১৮:০৮

রাজধানীতে জলাবদ্ধতার জন্য শুধু সিটি করেপোরেশনকে দায়ী করলে চলবে না, এর জন্য ঢাকা ওয়াসাও দায়ী বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর আশকোনা এলাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলের বিপরীতে কসাইবাড়ি-আশকোনা-কাঊলা-বনরূপা হাউজিং এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এডি-৮ খালখনন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মেয়র বলেন, ‘ওয়াসা ড্রেন ঠিক মতো পরিষ্কার না করার কারণে মগবাজারের সাতবাড়ি, মধুবাগ এলাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ জনগণ বারবার সিটি করপোরেশনকেই ধরছে। মধুবাগ, মগবাজার, শাশা বাড়ি ড্রেনের মালিক ওয়াসা। ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে আমি একাধিকবার ওয়াসার এমডিকে বলেছি। কিন্তু ওয়াসার এমডি চিঠি দিয়ে আমাদের জানিয়েছেন তারা সেগুলো পরিষ্কার করতে পারবেন না। সিভিল এভিয়েশন ও ওয়াসা নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে আপনারা আপনাদের দায়িত্বটা নিন। আপনাদের যথেষ্ট ফান্ড আছে আপনারা আপনাদের কাজটি করুন।’

ওয়াসা ও সিভিল এভিয়েশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দায়িত্ব নিন, অথবা আমাদেরকে ফান্ড দিন, আমরা কাজ করতে চাই। আপনারা দায়িত্ব নিবেন না, টাকা আপনাদের কাছে রেখে দেবেন, এটা হয় না। গত তিন মাস ধরে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে। এ ধরনের কাজ করতে গেলে প্রচুর টাকা লাগে। তারপরও আমরা অপেক্ষা করিনি। এই ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার খাল আমাদের যা কিছু আছে তা দিয়েই খনন করতে শুরু করেছি। আমরা এলাকার জনগণের সাপোর্ট চাই। আমরা মনে করি আমাদেরকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা জনগণের কষ্ট লাঘব করবো।’

মেয়র সিভিল এভিয়েশন ও ওয়াসাকে নিজ-নিজ দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করার আহ্বান জানান। খননকাজ শুরু করা খালটি সিভিল এভিয়েশনের উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘এ খালটি সিভিল এভিয়েশনের। আমরা সিভিল এভিয়েশনকে অনেক রিকোয়েস্ট করেছি। অনেকবার বলেছি। কিন্তু বৃষ্টিতো আর কারো জন্য অপেক্ষা করে না। এই ১.৮ কি.মি খাল খনন করে দেয়ার জন্য সিভিল এভিয়েশনকে বারবার অনুরোধ করেছি। তারা বলছে আমরা করতে পারবোনা, আপনারা করে দিন।’

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘জায়গা সিভিল এভিয়েশনের, খাল সিভিল এভিয়েশনের, অথচ কাজ করে দিতে হবে সিটি করপোরেশনকে!’

খাল খনন কাজের উদ্বোধনকালে মেয়র বলেন, ‘আপনারা জানেন আশকোনা, প্রেমবাগান, হজ ক্যাম্পের সামনে বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এজন্য এলাকার জনগণ আমাদেরকে দায়ী করছেন। ঢাকার এ অংশটি টোটাল আনপ্ল্যান্ড, যার-যার মতো করে বাসাবাড়ি, হাউজিং ইত্যাদি করে নিয়েছে। কিন্তু কোন দিক দিয়ে পানি নিষ্কাশন হবে সে চিন্তা করেনি। আলটিমেটলি জনগণের দুর্ভোগ হচ্ছে। হাউজিং কোম্পানিগুলো বিভিন্ন সিটি করছে, বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, কিন্তু পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো সিটি কাজ করেনি। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব কীভাবে করা যায় সে চিন্তা তারা করেনি।’

এসময় অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাঈম ও ডি এম শামীম উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/৩০মে/কারই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :