পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে আগ্রহী

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৩ জুন ২০২০, ১৬:২৩

করোনা পরিস্থিতিতে উচ্চশিক্ষায় দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির অনুমতিক্রমে অনলাইন ক্লাস চালু করলেও শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনও এর সম্ভাব্যতা যাচাই করে চলছে। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সহযোগী অধ্যাপকের অনলাইনে করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৮০% শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনলাইন ক্লাস করতে আগ্রহী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের তিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিনুর রশিদ, ড. মো. আহসান হাবীব ও ড. মো. সাইফুল মালেক অনলাইনে এ সমীক্ষা করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৬০৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে ২৯% শিক্ষার্থী মেট্রোপলিটন এলাকায়, ২২ % জেলা শহরে, ১৪% উপজেলা সদরে এবং ৩৫% গ্রামে বাস করছেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. মনিনুর রশিদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মানসিক, কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তুতি যাচাই করার জন্য আমরা অনলাইন সমীক্ষা ও টেলিফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে একটি গবেষণা করি। এতে ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মোট ৬০৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যাদের ৫৮% পুরুষ ও ৪২% নারী। পদ্ধতিগত কারণে গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবস্থা তুলে না ধরলেও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গ্রামে অবস্থানকারী প্রায় ৭০% শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৮০% কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনলাইন ক্লাস করতে আগ্রহী। বিশেষ করে, স্নাতক (শেষ বর্ষ) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রায় ৯০% শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস করে তাদের কোর্স সম্পন্ন করতে চান।

সমীক্ষার তথ্যানুসারে, কভিড-১৯-এর কারণে ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ৩৬% কৃষিকাজ বা গৃহস্থালির কাজ, ২২% সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ১৫% গল্পের বই পড়া, ১১% অনলাইন বিনোদন, ৭% চাকরির প্রস্তুতি ও ৪% ত্রাণ কাজে নিয়োজিত। মাত্র ৩% শিক্ষার্থী এ সময়ে লেখাপড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরেছেন। তবে গ্রামে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৮০% কৃষিকাজ বা গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে যুক্ত।

ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি অনলাইন কার্যক্রমের প্রধান শর্ত। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৯৪% শিক্ষার্থীরই ইন্টারনেট প্রবেশগম্যতা রয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের মতামতে প্রতীয়মান হয় যে, অনলাইন ক্লাসের জন্য বিভাগীয় এবং জেলা সদরগুলোতে প্রয়োজনীয় ওয়াইফাই বা ব্রডব্যান্ড সুবিধা থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে মোবাইল ডাটা ছাড়া ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া দুরূহ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৬২% মোবাইল ডাটা, ৩৬% ওয়াইফাই বা ব্রডব্যান্ড ও ২% পোর্টেবল মডেমের মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণ করছেন।

সে হিসেবে ইন্টারনেট প্রবেশগম্যতা থাকলেও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত ইন্টারনেট ডাটা ক্রয় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের (৪৭%) জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে গ্রামে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের ৬৫% এর জন্য। অংশগ্রহণকারীদের মতে, একটি এক ঘণ্টার ভিডিও ক্লাসের জন্য ৭০০-১০০০ মেগাবাইট ডাটা প্রয়োজন হয়। একজন শিক্ষার্থীর যদি পাঁচটি কোর্স থাকে এবং সপ্তাহে কোর্সপ্রতি একটি করেও অনলাইন ক্লাস হয়, তবে মাসে ২০টি ক্লাসের জন্য তাকে বেশ বড় ধরনের খরচ বহন করতে হবে।

জানা যায়, গবেষণায় দ্বৈবচয়ন সাক্ষাৎকারে দক্ষিণাঞ্চলের একটি সাইক্লোন শেল্টার থেকে অংশগ্রহণ করেছিলেন একজন শিক্ষার্থী। সাইক্লোন আম্পানে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনিও সময়মতো শিক্ষাজীবন শেষ করার তাগিদে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম উপাদান প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর স্বল্পতার চিত্রও উঠে আসে গবেষণায়। দেখা গেছে, সমীক্ষায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই (৮৮%) নির্ভর করছেন মোবাইল ফোনের ওপর এবং মাত্র ৮% ল্যাপটপ, ৩% ডেস্কটপ কম্পিউটার ও ১% ট্যাবলেটের ওপর। তবে , ৩% শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীবিষয়ক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করেছেন।

এমন সহযোগিতার বিষয়ে মনিনুর রশিদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে নিজ উদ্যোগে জুম এবং গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করে ৩-৫টি ক্লাস পরিচালনা করেছি, যেখানে প্রতি ক্লাসে গড়ে ৪০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। আমরা দেখেছি যে, প্রতি ক্লাসে ৭-১০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে অনুপস্থিত থেকেছে। এর মধ্যে অপর্যাপ্ত মোবাইল ডাটা একটি অন্যতম প্রধান কারণ। আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েকজনকে ডাটা স্পন্সর করে দেখেছি যে, খুব সামান্য সহযোগিতা খুলে দিতে পারে অসাধারণ সম্ভাবনার দ্বার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো যেখানে 'ফেস-টু-ফেস' শিক্ষণই নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত, বর্তমান পরিস্থিতিকে পরিবর্তনের একটি উত্তম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থায় বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘদিনের প্রচলিত কাঠামো ভেঙে শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রম পরিচালনা ও মূল্যায়নে আনতে পারে কার্যকর পরিবর্তন, যার শুরুটা হতে পারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা করে।

(ঢাকাটাইমস/০৩জুন/এমআই/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :