ঢাবি-মেডিকেলের প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ১৫:০৫ | প্রকাশিত : ২৩ জুলাই ২০২০, ১৪:২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে এ চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার দল। এদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ও চেক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার ক্রাইমের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস। এ সময় সেখানে সাইবার ক্রাইমের ডিআইজি মো. শাহআলমসহ সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া মুন্নু, পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু এবং সামিউল জাফর সিটু। গত ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মূলহোতা জসিম। তার কাছ থেকে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয় পত্র, দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করেছে সিআইডি।

সুমন কুমার দাস বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল কিংবা আর্মডফোর্স মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়াটা মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটা স্বপ্ন। এ চক্রের কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ব্যর্থ হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে কম মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ওই মামলায় ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় সিআইডি। যার মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ছিল ৪৭ জন। এদের মধ্যে ৪৬ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় তদন্ত করার সময় ২০১৮ সালে একটি চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি।

সুমন কুমার দাস বলেন, ওই মামলার তদন্তের সময়ে গত ১৯ জুলাই এস এম সানোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সাইবার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সানোয়ার ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। তার দেয়া তথ্যের উপর সিপিসির একটি দল ওই দিন রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া মুন্নু, পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু এবং সামিউল জাফর সিটুকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছাপাখানা থেকে মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র টাকার বিনিময়ে ফাঁস করত। তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় এজাহার নামীয় ১৪ জনসহ ১৫০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিআইডি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকে প্রশ্ন বের হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সুমন কুমার দাস বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, ১৯৮৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে একটি প্রেস থেকে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। ওই প্রেসে চাকরি করে এমন সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা হয়তো এসব কাজে যুক্ত থাকতে পারে।

এই চক্রের মূলহোতা জসিম উদ্দিন ভূইয়া মুন্নুর অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। যা মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

ঢাকাটাইমস/২৩ জুলাই/এএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :