বিএনপির লাভ-লোকসানের হিসাব

আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, বিবেচনার প্রতি আমাদের বরাবরই আস্থা ছিল এবং আছে। ঈদের দিন রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট করা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এজেন্ডাবিহীন সংলাপে যাওয়া বিএনপির জন্য ভুল ছিল বলে তার যে পর্যবেক্ষণের খবর পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে তার সঙ্গে আমিও একমত।
গত জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের প্রধান এজেন্ডাই হওয়া উচিত ছিল, ম্যাডামের নিঃশর্ত মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি।
১৯৭০র নির্বাচনের আগে সামরিক সরকার জে. ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে শেখ মুজিবর রহমান এজেন্ডা ছাড়া সংলাপে বসেননি এবং লিগ্যাল ফ্রেম অর্ডারের (এলএফও) অধীনে নির্বাচনে গিয়ে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করেন।
এবার আসি জে. এরশাদের আমলের কথা। তখনও এরশাদ সংলাপের আয়োজন করেছিলেন বঙ্গভবনে। জে. এরশাদের সামরিক শাসনের সময় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চালুর এক পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার প্রস্তাব করেন। ম্যাডামের নেতৃত্বে তখন সংলাপে গিয়েছিল বিএনপি।
তবে সংলাপের এজেন্ডা ছিল কারারুদ্ধ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এমনকি সামরিক আদালতে রাজনৈতিক কারণে দণ্ডিতদেরও মুক্তি। এরজন্য সংলাপে যাওয়ার আগে একটি তালিকা তৈরি হয়ছিল। সে অনুযায়ী নেতাকর্মীরা মুক্ত হন। কেবল তারপরেই ম্যাডাম সংলাপে যোগ দেন এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের অধীনে নির্বাচনের দাবি তোলেন। (এরশাদ প্রশাসনের সঙ্গে এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তৎকালীন বিএনপির একজন নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। যদিও মি. মাহমুদ বিএনপির হয়ে এরশাদের সাথে দফা দাবি তুলতে গিয়ে এক পর্যায়ে নিজেই এরশাদের খপ্পরে পরে মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করে পানিসম্পদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন।)
কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএনপি ড. কামালের নেতৃত্বে সংলাপে গিয়ে বিএনপির লাভটা কি হয়েছিল? ম্যাডামের কারাবাস আরও ১৫ মাস দীর্ঘ হওয়া আর সংসদে বিএনপির ৬ আসন লাভ?
হয়তো কেউ বলবেন, এসব এখন আলোচনা করে কি আর লাভ? একটি গতিশীল রাজনৈতিক দলের রাজনীতিতে মাঝে মাঝেই সিদ্ধান্তের পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়। তাতে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেয়ায় ভুল কম হয়। বিএনপি একটি বড়ো দল হিসেবে এ কাজটি করলে তাতে বিএনপিরই লাভ হবে। কারণ দল যখন ক্ষমতায় যায় তখন বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা লাখ লাখ হয় না। কিন্তু ভুল সিদ্ধান্তে দল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার পরিণামে নেতাকর্মী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতিহাস তাই বলে। শুধু দলই যে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা নয়, তাতে দেশেরও ক্ষতি হয়। জনগণের কাঁধে অপশাসনের বোঝা চাপে, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি যায়।
পুনশ্চঃ আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই আমার রাজনৈতিক জীবনও জড়িয়ে আছে। তাকে আমি এবং আমার মত যারা তাকে চেনেন এবং জানেন,তারা খুব ভালো করেই জানেন যে দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কাউকে খুশি করে স্বল্প সময়ের মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার পক্ষে ছিলেন না এবং কোনো অন্যায় চাপের কাছে দেশের স্বার্থে নতি স্বীকার করার মত তিনি নন।
লেখক: বিশেষ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













