বৈরুতের বিস্ফোরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক তরুণের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২:৩৯

লেবাননের বৈরুতে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় রাসেল (২৩) নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হন রাসেলের বড় ভাই সাদেক মিয়া। নিহত রাসেল সদর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের জাজিসার গ্রামের মুর্শিদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ছেলের জন্য বিলাপ করে কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারাচ্ছেন রাসেলের মা পারুল বেগম।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার জীবন ও ভাইস চেয়ারম্যান মনির হোসেনসহ সকল নেতৃবৃন্দ রাসেলের বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবাকে সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিহতের পরিবার জানায়, তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট রাসেল গত ৪ বছর আগে জীবিকার তাগিদে লেবাননে যান। বৈরুতে বিস্ফোরণস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ করতেন তিনি ও তার বড় ভাই সাদেক মিয়া। গত মঙ্গলবার বিকেলে বিস্ফোরণের সময় সেখানেই কর্মরত ছিলেন তারা। ঘটনা পর থেকে দেশ থেকে পরিবারের লোকজন একাধিকবার ফোন দিলেও কেউ ফোন রিসিভ করছিল না। নিখোঁজ হয়ে যায় রাসেল, তার ভাই ও তার ফুফাত ভাইসহ কয়েকজন স্বজন। হাসপাতালে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরে পায় রাসেলের বড় ভাই সাদেক মিয়া। তিনি তখন ফোন রিসিভ করে রাসেলে খোঁজ নেই বলে বিস্তারিত জানায়। খবর পেয়ে লেবাননের অন্য এলাকা থেকে ছুটে আসেন রাসেলের চাচা জসিম উদ্দিন। চাচা জসিম উদ্দিন ও বড় ভাই সাদেক মিয়া বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজতে থাকে রাসেলসহ অন্য স্বজনদের। এক পর্যায়ে গত ৫ আগস্ট বিকেলে একটি হাসপাতালের মর্গে খুঁজে পায় রাসেলের লাশ। পরে ওই শহরের অপর একটি হাসপাতালের মর্গে মেলে নিহত রাসেলের আপন ফুফাত ভাই ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর গ্রামের রেজাউলের লাশ। চিকিৎসাধীন খুঁজে পাওয়া যায় রাসেলের ভগ্নিপতি গোলাম রসুলকে।

রাসেলের মা কান্নাজড়িত গলায় বলেন, সরকার যেন তার মৃত সন্তানের লাশ ও আহত সন্তানকে দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করে।

তবে নিহত ও আহতদের দেশে আনার ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগীতা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বৈরুতের জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান রনির (২৫) মৃত্যু হয়েছে। তিনি ২০১৪ সালের মার্চ মাসে লেবাননে যান।

(ঢাকাটাইমস/৬আগস্ট/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :