সর্দি-কা‌শি হ‌লেই কি ক‌রোনা হয়?

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট ২০২০, ১০:৩৭

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি হওয়া অসুখের মধ্যে অন্যতম একটি হলো- সর্দিজ্বর, কাশি। বছরে শিশু-কিশোরদের ১০ থেকে ১২ বার এবং বয়স্ক মানুষদের চার থেকে ছয় বার সর্দি-কাশি হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। ভাইরাসের সংক্রমণে এই সর্দি-জ্বর, কাশি বা ঠান্ডা লেগে থাকে। ক‌রোনাকা‌লে মানু‌ষের ম‌নে ভয়, স‌র্দি, কা‌শি হ‌লেই বু‌ঝি ক‌রোনা হয়। আস‌লে কিন্তু তা নয়।

আগে ধারণা করা হতো একটি বিশেষ গোত্রের ভাইরাসের মাধ্যমেই শুধু সর্দি-কাশি হয়। তবে আশির দশকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয় সাতটি গোত্রের ভাইরাসের কারণে সর্দি-জ্বর-কাশি হয়। শীত মৌসুমে এই ভাইরাসগুলো সংক্রমিত হওয়ার মতো পরিবেশ পায় বলে ঠান্ডার সময় সর্দি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে শীতকালে বা ঠাণ্ডাজনিত কারণে মানুষের সর্দি-কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

বিজ্ঞানীদের মতে, সর্দি-জ্বর বা কাশি সংক্রমিত থাকা অবস্থায় নাসারন্ধ্রের ভেতরে মিউকাস লাইনিং অতিক্রম করে প্রবেশ করে সংক্রমণকারী জীবাণু। এর ফলে নাসারন্ধ্রের ভেতর অতিরিক্ত সর্দি জমা হয়, চিকিৎসা শাস্ত্রে যাকে ‘রাইনোরেয়া’ বলা হয়।

অল্পস্বল্প, দু-চার দিনের কি সপ্তাহখানেকের সর্দি কা‌শি তবু ঠিক আছে। এর বেশি হলে ডাক্তার দেখান। কারণ দীর্ঘস্থায়ী সর্দি কা‌শি অনেক সময়ই বিপদের পূর্বাভাস বয়ে আনে।

অসংখ্য কারণে হতে পারে। ঠান্ডা লাগা থেকে হৃদরোগে। ধূমপান থেকে হাঁপানিতে। সঙ্গে অন্য যে উপসর্গ আছে তার সঙ্গে মিলিয়ে কারণ খুঁজতে হয়। যেমন —

দু-চারদিনের কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা: গলা বা বুকের সাধারণ বা মাঝারি সংক্রমণ।

কাশির সঙ্গে বারবার হাঁচি: অ্যালার্জি। ঠান্ডা লাগা থেকে শুরু করে ধুলো, ধোঁয়া বা ফুলের রেণু থেকে অ্যালার্জি হওয়া সম্ভব।

কাশিতে রক্তের ছিটে: ফুসফুসের যক্ষ্মা, টিউমার, ক্যান্সার, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস নামে ফুসফুসের অসুখ, কিছু হার্টের অসুখ যেমন ভি এস ডি বা মাইট্রাল স্টেনোসিস হতে পারে।

কাশি সঙ্গে অল্প বিস্তর হাঁপের টান: ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, ক্রনিক হার্টেফেলিওর বা হাঁপানি থেকে হতে পারে।

কাশি, সর্দি, গলাজ্বালা, মাথাব্যথা: ক্রনিক সাইনোসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

কাশি, গলা ব্যথা, ঢোক গিলতে কষ্ট: ফ্যারিনজাইটিস বা টনসিলাইটিস হতে পারে।

লাগাতার খুসখুসে কাশি, কখনও ভোরে কখনও মাঝরাতে, কখনও বা দিনভর --- নানা কারণে হতে পার —

অম্বল, পেটে কৃমি, গলব্লাডারের সমস্যা বা ট্রপিকাল ইওসিনোফিলিয়া।

হলুদ রঙের ঠান্ডা পানীয় খাওয়া।

ধোঁয়া ধুলোয় বহুক্ষণ কাজ করতে হলে।

প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপান।

ব্যথা কমার ওষুধ খেলে হাঁপানি রোগীর কাশি হতে পারে।

নস্যি, জর্দা পানপরাগ জাতীয় কোনও নেশা থেকে।

মশার ধূপ এমনকী রান্নার গ্যাস থেকেও কাশি হতে পারে।

নিয়মিত এ সি ই ইনহিবিটর গোত্রের ওষুধ খেলে কাশি হতে পারে।

কানে খোল জমলে।

বাচ্চা ক্রমাগত কাশতে থাকলে দু’টি জিনিস খেয়াল করুন —

হাঁপানি হয়েছে কি না বা

কোনও ফরেন বডি শ্বাসনালীতে ঢুকে রয়েছে নাকি।

রাত্রের দিকে বেশি কাশি হলে, বিশেষত বাচ্চাদের, নাক বন্ধ হয়ে গেছে কি না দেখুন।

বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় বা শীতকালে সর্দি-কাশির সমস্যা বেড়ে যায়। অনেকেই একে সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন। কিন্তু এতে বিপদ আরও বাড়তে পারে। সময় মতো এই সমস্যার চিকিৎসা না করালে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে শ্বাসযন্ত্রে। তবে কড়া কড়া ওষুধ বা সিরাপ খাওয়ার আগে জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু ঘরোয়া টোটকা যা সর্দি-কাশি, বুকে কফ বা শ্লেষ্মা জমার সমস্যার উপশমে বিশেষ কার্যকরী!

সর্দি কা‌শি থেকে যেভাবে বাঁচবেন

গলায় খুসখুসে ভাব দূর করতে ব্যবহার করা হয় আদা চা। ২ কাপ জলে কিছুটা আদার কুচি দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে এর সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে খেলেই গলার খুসখুসে ভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আদা-মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান গলার গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া কমায় এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে।

চায়ের পরিবর্তে উষ্ণ গরম জলেতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। প্রতিদিন এই মিশ্রণ পানের অভ্যাস করুন। এ ছাড়াও গ্রিন-টি পানের অভ্যাস করতে পারেন। উপকৃত হবেন।

কলা একটি নন-অ্যাসিডিক খাবার যা গলা খুসখুসে ভাব কমাতে খুবই কার্যকরী! এ ছাড়াও কলা একটি লো-গ্লাইসেমিক খাবার যা ঠান্ডা লাগা বা সর্দি ভাব দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন এক চামচ করে মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন। মধু হচ্ছে উচ্চ ওষধিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল। নিয়মিত মধু খাওয়ার অভ্যাস আপনার শ্বাসনালীর নানা সমস্যা দূরে রাখবে এবং সেই সঙ্গে সর্দি-কাশির সমস্যাও।

গাজরকে বলা হয় সুপার ফুড। গাজরের ভিটামিন ও মিনারেলস শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এই কারণেই চট করে সর্দি-কাশির মতো রোগগুলো শরীরকে কাবু করতে পারে না। তবে ঠান্ডা লাগলে কাঁচা গাজর না খেয়ে সেদ্ধ করেই খাওয়া উচিত।

বিটের মূল, মিষ্টি আলু, বিশেষ ধরনের কয়েকটি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণ বেটা-ক্যারোটিন থাকে। যা মানবদেহ ভিটামিন ‘এ’ তে রূপান্তরিত করে। ভিটামিন ‘এ’ আমাদের নাক এবং ফুসফুসের মিউকোসাল লাইনিংকে শক্ত রাখে যা নাক ও ফুসফুসকে ইনফেকশনের হাত থেকে বাঁচায়। এছাড়া তরমুজ, আম, কমলা সহ লাল জাতীয় কিছু ফল একই ধরনের কাজ করে থাকে।

খাবারের মধ্যে মশলা জাতীয় অর্থাৎ যথেষ্ট পরিমাণ রসুন ও পেঁয়াজ থাকলেও ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের হার অনেকেটাই কমে যায়। পেঁয়াজ ও রসুনে একধরনের তেল থাকে যা কি না ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে মানবদেহকে রক্ষা করে থাকে।

ভিটামিন ‘সি’ সর্দি-জ্বর-কাশি থেকে বাঁচাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ঠান্ডা পরিবেশে বসবাসকারী মানুষ উচ্চমাত্রায় ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণ করে সর্দি-জ্বরের হাত থেকে বাঁচতে পারেন। এটা আগে থেকেই প্রমাণিত হয়েছে।

এছাড়া সূর্যের আলো বা অন্য কোনো উৎস থেকৈ যথেষ্ঠ পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণেও আমাদের শরীরকে সর্দি-জ্বর, কাশি বা ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

(ঢাকাটাইমস/১৩আগস্ট/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :