চাহিদার ৭০ শতাংশ পরিশোধিত পানি থেকে পূরণের টার্গেট

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:১৫

রাজধানীর পানির চাহিদা পূরণে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর কম নির্ভরশীল হয়ে পরিশোধিত পানির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। বর্তমানে রাজধানীর সায়েদাবাদের দুটি পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট থেকে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা রাজধানীর মোট পানির চাহিদার ২০ শতাংশ। সায়েদাবাদের ফেজ-৩ নামে আরও একটি প্ল্যাট করার কাজ হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। সেখান থেকে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর মোট পানির চাহিদার ৭০ শতাংশ পরিশোধিত পানির মাধ্যমে এবং বাকি ৩০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা ওয়াসা।

ওয়াসা বলছে, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানির সরবরাহ করছে তারা। দৈনিক প্রায় ২৪০ থেকে ২৪৫ কোটি লিটার পানি চাহিদার বিপরীতে দৈনিক ২৬০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে ওয়াসা। পানি উৎপাদন এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির পাম্পে সমস্যা হয়। আর দিনে দিনে ভূগর্ভস্থ পানি আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে এবং ঢাকাবাসীকে নিয়মিত পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পরিশোধিত পানির দিকে নগর দিচ্ছেন তারা।

ঢাকা ওয়াসা থেকে পাওয়া তথ্য মতে, সংস্থাটি ৮৮৭টি গভীর নলকূপ থেকে শতকরা ৬৬ ভাগ এবং সায়েদাবাদ ফেজ-১ ও ২ সহ মোট পাঁচটি পানি শোধনাগার থেকে শতকরা ৩৪ ভাগ পানি সরবরাহ করছে। বর্তমানে ফেজ-৩ বাস্তবায়নে কাজ করছে ওয়াসা। এটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর মোট পানির চাহিদার ৭০ শতাংশ পরিশোধিত পানির মাধ্যমে এবং বাকি ৩০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে।

ওয়াসা জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার ফলেই ঢাকা ওয়াসা বর্তমানে পরিবেশবান্ধব টেকসই ব্যবস্থাপনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসায় ইতিমধ্যে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে। মাস্টারপ্ল্যানের সুপারিশ মতে, ২০২৫ সালে শতকরা ৭০ ভাগ ভূউপরিস্থ পানির উৎস থেকে এবং শতকরা ৩০ ভাগ ঢাকার ভূগর্ভস্থ থেকে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা ওয়াসা কাজ করছে।

সায়েদাবাদ প্রকল্পের বিষয়ে ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ঢাকা শহরে পানি সমস্যা হয় না, এটা আমরা বলব না। ডিপ টিউবওয়েল পানি কমে গেলে আমরা এখন সেটিকে স্মার্টভাবে সমাধান করতে পারি। যা আগে ছিল না। কোনো এলাকার ডিপ টিউবওয়েলে যদি পানির সাপ্লাই কমে যায়, তাহলে আমরা অনলাইনের মাধ্যমে আমাদের প্ল্যান্ট নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে গ্রাহক পর্যন্ত পানি সরবরাহ বাড়াতে পারি। এছাড়া আমাদের এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত পানি আমরা আমাদের নেটওয়ার্ক পাইপের মাধ্যমে আশপাশের এলাকাসহ বাড্ডা পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছি।’

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খান জানান, গত বছরের ১ অক্টোবর ৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পদ্মা-জশলদিয়া পানি শোধনাগারটি চালু হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি বৃহৎ পানি শোধনাগার প্রকল্প নির্মাণ কাজ হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে একটি সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প ফেজ-৩। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মেঘনা নদীর উৎস থেকে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার ঢাকা শহরে সরবরাহ করা হবে। ড্যানিডা, ইআইবি, কেএফডব্লিউ এবং এএফডি এর আর্থিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। ২০২৫ সাল নাগাদ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হবে। আর এতে ব্যয় ধরা হয়েছে তার হাজার চার হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

সায়েদাবাদ ফেজ-১ ও ২ প্রকল্প দুটি সম্পূর্ণ দেশীয় লোকবল দিয়েই চলছে জানিয়ে তাসকিম এ খান বলেন, ‘বর্তমানে ৩৩ থেকে ৩৪ শতাংশ পরিশোধিত পানি এবং বাকিটা ভূগর্ভস্থ পানি ঢাকা ওয়াসা সরবরাহ করছে। এটিকে ৭০ শতাংশ পরিশোধিত পানি এবং ৩০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যেতে আমরা কাজ করছি।’

পানি শোধনাগার প্রকল্পগুলোতে কোনো দুর্নীতি হয়নি বলে দাবি করেছেন ওয়াসার এমডি। এছাড়া ওয়াসা যে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ করছে তা বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ঢাকাবাসীকে পানির নিশ্চয়তা দেয়া যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/১১সেপ্টেম্বর/কারই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :