মৃত্যুর ২৪ দিন পর জমির দলিল দিলেন তিনি!

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:০২

রেহেনা বেগম (৫৭) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর। অথচ তার মৃত্যুর ২৪ দিন পর ২০১৯ সালে ২৮ নভেম্বর সশরীরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে উপস্থিত থেকে দলিল দিয়েছেন তিনি। এমনই ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়।

এ ঘটনায় ওই দলিল বাতিল চেয়ে পটুয়াখালী আদালতে মামলা করেছেন মারা যাওয়া ওই নারীর এক ওয়ারিশ চাচাতো ভাই মামুন হোসেন। অথচ সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি দাবি করেছেন ওই নারী ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর তাকে দলিল দিয়েছেন।

রেহেনা বেগম ছিলেন উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপারা গ্রামের বাসিন্দা। তার কোনো সন্তান নেই। স্বামী আলতাফ হোসেন ২০১১ সালে মারা যান।

ওয়ারিশ সনদ অনুযায়ী তিন চাচাতো ভাই জীবিত আছেন। ফজলুল হক সিকদারের তিন ছেলে আবুল হোসেন, একেএম শফিউল আলম, মামুন হোসেন।

মদনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মৃত্যু রেজিস্ট্রার ও মৃত্যু সনদ অনুযায়ী তিনি ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর মারা গেছেন। জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেও এর সত্যতা যাছাই করা হয়েছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেহেনা বেগম নামে ওই নারী ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর একই উপজেলার ভরিপাশা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে দুটি অছিয়াতনামা দলিলে ৭৪ শতাংশ জমি নিবন্ধন করে দেন। এর মধ্যে ওই তারিখের ৬৯/২০১৯ নম্বরে দলিলে চন্দ্রপাড়া মৌজার ৫০ শতাংশ জমি ও ৭০/২০১৯ নম্বর দলিলে ভরিপাশার ২৪ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাইফুলের বাবার নাম আলমগীর হোসেন। তিনি ওই নারীর কোনো ওয়ারিশ নেই। জমির দলিল নিবন্ধনের নিয়মানুযায়ী দলিলদাতাকে সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে সশরীরে উপস্থিত থেকে হলফনামা দেয়ার পরে জমি নিবন্ধন হয়। এমনকি দলিলেও ছবিযুক্ত স্বাক্ষর থাকতে হয়।

সংশ্লিষ্ট মদনপুরা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, ‘রেহেনা বেগম ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর মারা গেছেন যা এলাকার সবাই জানে। সে অনুযায়ী তার স্বজনদের মৃত্যুসনদ দেয়া হয়েছে। মারা যাওয়ার ২৪ দিন পর কীভাবে তিনি দলিল দিলেন- তা আমার বোধগম্য নয়। এমন জাল-জালিয়াতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই নারীর কোনো সন্তান নাই। স্বামীও মারা গেছেন। ওয়ালিশ বলতে তিন চাচাতো ভাই আবুল হোসেন, একেএম শফিউল আলম, মামুন হোসেন জীবিত আছেন।’

মামুন হোসেন বলেন, ‘তিনি মারা যাওয়ার আগে আমরাই দেখভাল করতাম। তার জমি আমারই ভোগ করতাম। সম্প্রতি জানতে পারি- ওই জমি তিনি সাইফুল নামে অন্য এক ব্যক্তিকে অছিয়াতনামা দলিল দিয়েছেন। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি, মারা যাওয়ার ২৪ দিন পর দলিল দিয়েছেন। সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ওই দলিলের সইমোহর (নকলকপি) উঠিয়ে দলিল বাতিল চেয়ে চলতি বছরের ২০ আগস্ট পটুয়াখালীর বাউফল সহকারী জজ আদালতে মামলা করেছি।’

এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রেহেনা বেগম জীবিত থাকাকালে তাকে অছিয়াতনামা দলিল দিয়েছেন। তিনি ৩ নভেম্বর মারা যাননি। মারা গেছেন ৫ ডিসেম্বর।’ এ সংক্রান্ত কাগজ তার কাছে আছে বলেও দাবি করেন।

সাব-রেজিস্ট্রার কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নাই। আমি চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে দলিল নিবন্ধনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। জমিদাতাকে অবশ্যই সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। কোনভাবেই মৃত ব্যক্তির নামে জমি নিবন্ধন করা যাবে না।’

(ঢাকাটাইমস/২৬সেপ্টেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :