যেসব নিয়মে বানালে গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৬:০২ | প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৫৫

গ্রিন টি তৈরি করা হয় যে চা গাছের পাতা বা কুঁড়ি থেকে তার বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস। আমরা সাধারণত যে চা পান করে থাকি সেই ব্ল্যাক টি কিংবা ওলং টি থেকে গ্রিন টি-র প্রস্তুতপ্রণালী কিছুটা ভিন্ন। গ্রিন টি-কে উইদারিং বা অক্সিডেশন (উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ানো) হয় না। গ্রিন টি সর্বপ্রথম চীনে আবিষ্কৃত হয় এবং ধীরে ধীরে এশিয়ার অন্যান্য দেশের এটি ছড়িয়ে পরে। গ্রিন টি একটি পুষ্টিকর এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত পানীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আশ্চর্যজনক ভাবে দ্রুত কাজ করতে পারে।

গ্রিন-টি মূলত তৈরি করা হয় ফার্মেনটেশন ছাড়া যাতে এর সবুজ রং অক্ষুণ্ণ থাকে। প্রথমে চা পাতাকে আংশিক শুকানো হয়, তারপর বাষ্পায়িত করা হয়, এরপর শুকিয়ে নেওয়া হয় এবং সবশেষে তাপ দিয়ে গ্রিন-টি তৈরি করা হয়।

গ্রিন টি কীভাবে খাওয়া উচিত, এতে কী কী উপকার তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা অনেকেরই নেই। অতিরিক্ত গ্রিন টি যেমন পান করা ঠিক না, তেমনই আবার খালি পেটে ঘুম থেকে উঠেই গ্রিন টি, কিংবা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে গ্রিন টি পান করাও মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।

আমেরিকান জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি গবেষণায় জানা যায়, অন্যান্য চায়ের মতো গ্রিন টি আমাদের শরীরে জারিত হয় না। তাই এই চা অন্য চায়ের তুলনায় স্বাস্থ্যকর। অনেক রকম ফ্লেভার তো বটেই, বাজারে ভেষজ গ্রিন টি-ও পাওয়া যায়। গ্রিন টি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড জমতে দেয় না। রক্তনালিতে এই সব ফ্যাট জমলে রক্ত সঞ্চালন বাধা পায়।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গ্রিন-টির ভূমিকা অপরিসীম।গ্রিন-টি তে মূলত রয়েছে ফ্লাভোনোয়েড জাতীয় উপাদান যেমন-ক্যাফেইন, থিয়োফাইলিন, থিয়ানিন, ক্যাটেকিন, থিয়ারুবিজিন, ইসেনসিয়াল অয়েল এবং ফেনল জাতীয় যৌগ।

এছাড়াও এতে রয়েছে দ্রবণীয় উপাদান যেমন-অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্লুরাইড, ভিটামিন বি১,বি২, ন্যাচারাল সুগার, পেকটিন, স্যাপোনিন এবং ভিটামিন সি।

অন্যদিকে অদ্রবণীয় উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে-ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, সেলুলোজ এবং ভিটামিন-ই।এই উপাদানগুলো মূলত পাতায় থাকে।এছাড়াও এতে পানির পরিমাণ শতকরা ৭৫-৮০ শতাংশ।

গ্রিন টি বানানোর সময় যেসব নিয়ম মেনে চলবেন

অর্গানিক গ্রিন টি বেছে নিলে কীটনাশকের বা কোনও ক্ষতিকারক রাসায়নিকের প্রভাবমুক্ত থাকা যাবে। সতেজ গ্রিন টি কিন্তু হালকা সবুজ রঙেই হবে। টি ব্যাগ এড়িয়ে চলাই ভাল। পাতার আকার হবে বড়। মার্চ-এপ্রিল মূলত এই গ্রিন-টি চাষ করা হয়, তাই পুষ্টিগুণও সেই সময় সবচেয়ে বেশি মেলে। ৬ মাসের বেশি গ্রিন টি রাখা যায় না কোনওমতেই। গ্রিন টি-তে কখনওই চা মিশিয়ে খাবেন না। গ্রিন টি-র প্যাকেটে এপিগ্যালোক্যাটেচিন (ইজিসিজি)আছে কি না দেখতে হবে, ভাল রকমের ইজিসিজি মানে সেটাই কেনা ভাল। গ্রিন টির গন্ধ হবে হালকা, সতেজ, কচি ঘাসের মতো। গ্রিন টি রাখতে হবে কাচ বা পোর্সেলিনের বদ্ধ পাত্রে।

গ্রিন টি-তে দুধ মেশানো ঠিক নয়। ওয়ার্ক আউটের আগে বা পরে গ্রিন টি খাওয়া যায়। স্ন্যাক্স খাওয়ার ইচ্ছা দমন করতে হলেও এক কাপ গ্রিন টি যথেষ্ট।

পুষ্টিবিদদের মতে, গ্রিন টি খেয়ে কখনও খালি পেটে থাকা যাবে না। কারণ এর ফলে টক্সিসিটির পরিমাণ বাড়তে পারে। এ ছাড়াও পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রিন টি পান করে ওজন কমানো একেবারেই ঠিক নয়। পেপটিক আলসারের রোগীরা গ্রিন টি না খাওয়াই ভাল। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গ্রিন টি পান করতে চাইলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে খেতে হবে।

সারা দিনে ২ থেকে ৩ কাপ উষ্ণ গ্রিন টি পান করলে ওজন কমে এবং বিপাকক্রিয়া বাড়ে। স্বাদ এবং প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে আপনি সবুজ, কালো, সাদা এবং ওলং চা-সহ বিভিন্ন ধরনের গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন।

বিশেষ করে মনে রাখা দরকার ফ্যাট বার্ন করতে গ্রিন টি সহায়ক ঠিকই, কিন্তু তার সঙ্গে শারীরিক অনুশীলন এবং সঠিক ডায়েটও ফ্যাট কম করতে এবং আপনার সামগ্রিক ফিটনেস বজায় রাখতে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সঠিক গ্রিন টি বানানোর পদ্ধতি

৫ গ্রাম বা এক চা চামচ গ্রিন টি নিতে হবে। জল গরম করে ফুটে গেলে (৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জল থাকলে ভাল।) তারপর তা সামান্য ঠান্ডা হলে স্টিল বা কাচের পাত্রে রাখতে হবে। তার পর এতে চা পাতা যোগ করে ৩ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে। চা পাতা পুরোপুরি ভিজে গেলে পছন্দের কাপে চা ছেঁকে চুমুক দিন প্রিয় পানীয়তে।

কেউ চাইলে এর মধ্যে দারুচিনি গুঁড়া, এলাচ গুঁড়া, আমলা গুঁড়া যোগ করতে পারেন। যোগ করা যায় আদাও। এক চা চামচ আমলার রস, এক চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ আদার রসে গ্রিন টি পাবে অন্য মাত্রা। তবে দিনে দু থেকে তিনবারই যথেষ্ট। অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করা কখনওই ঠিক নয়।

(ঢাকাটাইমস/১৭ অক্টোবর/আরজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :