বগুড়ার ৯২ শতাংশ ইটভাটা অবৈধ

এনাম আহমেদ, বগুড়া
| আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৫৪ | প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৪০

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বগুড়া জেলাজুড়ে জ্বলছে অসংখ্য ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে জেলায় ২১৮টি ইটভাটা থাকলেও এর মধ্যে অনুমোদন আছে মাত্র ১৭টিতে। এই হিসাবে জেলার ৯২ শতাংশ ইটভাটাই অবৈধ। তবে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘনকারী এই ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, হাইকোর্টে রিট থাকায় এগুলোর বিরুদ্ধে এতদিন ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে রিটের রায় সম্প্রতি তাদের পক্ষে যাওয়ায় শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বগুড়া জেলার ২০১টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে সদরে ১২টি, শাজাহানপুরে ৩২টি, সোনাতলায় ৪টি, আদমদীঘিতে ৮টি, কাহালুতে ১০টি, দুপচাঁচিয়ায় ৮টি, ধুনটে ১৯টি, গাবতলীতে ৩৭টি, শিবগঞ্জে ৩১টি এবং শেরপুরে রয়েছে ২৬টি। তবে স্থানীয় পরিবেশবাদীদের দাবি জেলায় অনুমোদনহীন ইটভাটার সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শাজাহানপুর, গাবতলী এবং সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রতিটি ইটভাটাই ফসলি জমির মাঝখানে স্থাপন করা। প্রতিটি ইটভাটার ১ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই তিন উপজেলার প্রায় শতভাগ ভাটারই অনুমোদন নেই। দুই-একটি আগে অনুমোদন নিলেও তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা নতুন আইনের কারণে অবৈধ হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের কার্যক্রম চলছে হরদম।

শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়ার আরএইচবি ইটভাটার স্বত্বাধিকারী আলহাজ রফিকুল ইসলাম জানান, তার ভাটার ২০১২-১৩ পর্যন্ত ক্লিয়ারেন্স ছিল। তবে নতুন আইনে আর ছাড়পত্র দেয়নি পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু সমিতির মাধ্যমে নতুন করে আবেদন করে ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

একই এলাকার এআরএন ব্রিকস ফিল্ড এর প্রোপ্রাইটর নজরুল ইসলাম জানান, ৫ বছর আগে তারা ভাটা চালু করেছেন। কিন্তু ২০১৭ সালের পর আর নবায়ন করে দেয়নি। তিনিও জানান, ইটভাটা মালিক সমিতির মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নতুন লাইসেন্সের জন্য যোগাযোগ করছেন।

তবে বগুড়া জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশের কোথাও কোনো ইটভাটার লাইসেন্স পাওয়া যাবে না। কারণ আবাদি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ ছাড়া জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না দেশে। তাই নীতিমালার সংস্কার দরকার। ভাটার ধোঁয়া নির্গমনের পদ্ধতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

তিনি জানান, দূষণ কমানোর লক্ষ্যে পুরাতন পদ্ধতির ইটভাটার পরিবর্তে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তির পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা স্থাপনের লক্ষ্যে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত) ২০১৯’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনে বর্তমানে সনাতন প্রযুক্তির ১২০ ফুট চিমনি বিশিষ্ট ইটভাটা সমূহে ইট উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জিগজ্যাগ পদ্ধতির ক্ষেত্রে চিমনির উচ্চতা কম হলেও সমস্যা হয় না। কারণ তাতে ধোঁয়া পরিশোধন হয়ে কার্বনের মাত্র কমে নিঃসরণ হয়।

বগুড়া জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মালেক জানান, ইটভাটার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়। যে সকল ইটভাটা অবৈধ, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনী জটিলতা নেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করবো।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় বগুড়া’র পরিচালক মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, ইটভাটাগুলোকে অনেক আগে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে তা ছিল এক বছরের জন্য। এর মধ্যে আইন বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত হয়েছে। যেমন এক সময় ১২০ফিট চিমনি বৈধ ছিলো। ২০১৩ সালের আইনে এটি অবৈধ হয়ে গেছে। ১২০ ফিট চিমনী বিশিষ্ট ভাটাগুলোকে একটি গ্রহণযোগ্য স্থানে ভাটা সরিয়ে নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে ভাটা গড়ার জন্য সময় দেয়া হয়েছিল। সেগুলো স্থান পরিবর্তন করেনি। তবে অধিকাংশ ভাটাই এখন জিগজ্যাগ করা হয়েছে। কিন্তু ভাটা সরিয়ে না নেয়ায় নুতন আইনের কারণে নবায়ন পাচ্ছে না তারা। ভাটাগুলো নিয়ে ২০১৮ এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত হাইকোর্টে রিট ছিলো। গত বছর এর রায় হয়েছে। অধিকাংশ রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। ইতোমধ্যে আমরা ২৫টির মতো ভাটা ভেঙে ফেলেছি। অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে আমরা এখন পর্যায়ক্রমে আইনি ব্যবস্থা নেবো।

ঢাকাটাইম/৩০ নভেম্বর/পিএল

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :