ঘরে বাইরে মশার যন্ত্রণা

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:৩২ | প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৪৩

চলতি শীত মৌসুমে মশায় অতিষ্ট সাধারণের যন্ত্রণার প্রকাশ পেয়েছে খোদ সরকারের এলজিইডি মন্ত্রীর মুখে। মন্ত্রী অকপটে বলেছেন, মশা মানুষের কাছে অসহ্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মশার উপদ্রব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঘরে-বাইরে এমন কি হাসপাতালেও রেহাই মিলছে না। মশার হাত থেকে রক্ষা পেতে রাজধানীর মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে হাসপাতাল থেকে রোগীকে দেয়া হচ্ছে মশারি। মশার হাত থেকে বাঁচতে হাসপাতালটিতে দিন-রাত মশারির ভেতরেই থাকছেন রোগী ও তার স্বজনরা।

এদিকে করোনার কারণে এতদিন ডেঙ্গু রোগীদের নিয়ে খুব একটা আলোচনা ছিলো না। তবে আক্রান্ত অন্য বছরের থেকে খুব বেশি না হলেও মশার উপদ্রব কমানো এবং রোগী সামাল দিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা বেড়েছে। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলরা বলছেন, প্রতিবছর শীতের সময় কিউলেক্স মশার উপস্থিতি বেড়ে যায়। ড্রেন, জলাশয়ে প্রবাহমান পানি না থাকায় মশা বংশবিস্তার করে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাই নিয়মিত মশার ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। উত্তর সিটিতে চতুর্থ প্রজন্মের নোভালিউরন ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তারা আশা করছেন দ্রুত পরিস্থিতি উত্তরণ হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার দেশে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়নি। তবে জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে রবিবার পর্যন্ত ৩১ জন রোগী ভর্তি হয়। এদের মধ্যে ২৫জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ছয়জনের মধ্যে তিনজন ঢাকায় এবং বাকিরা দেশের অন্য হাসপাতালে আছেন। তবে এখন পর্যন্ত এই বছর কোনো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য নেই কন্ট্রোল রুমে।

এদিকে সম্প্রতি মশার ওষুধের কার্যকারিতা আশানুরূপ নয়, এমন অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণের মেয়রকে চিঠি দিয়েছেন একজন কমিশনার। এরপর বৃহস্পতিবার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম প্রশ্ন তুলে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগের তিনি ঢাকার দুই সিটিকে তাগিদ দিয়েছেন।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীর নির্দেশনা ও কাউন্সিলের চিঠির বিষয়টি আমলে নিয়ে মেয়র ফজলে নূর তাপস স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধানকে ওষুধে কার্যকারিতা মিলছে কি না তা প্রতিবেদন আকারে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মশার ওষুধ নিয়ে আর কি করা প্রয়োজন তাও জানানোর জন্য বলেছেন মেয়র।

অন্যদিকে গতকাল রবিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মশার উপদ্রব নিয়ে মৃদু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ঢাকায় মশা যে অসহ্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই’।

মাতুয়াইলে শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে গত দুই সপ্তাহ ধরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে আছেন রিয়াজ আহমেদ। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘মশার জ্বালায় অবস্থা কাহিল। ২৪ ঘণ্টা মশারির ভেতরে থাকতে হচ্ছে। সবাই মশারি কিনে নিয়েছেন। অনেককে হাসপাতাল থেকে মশারি দেয়া হয়েছে। সবাই খুব অতিষ্ট।’

মশার উপদ্রব এবং এ নিয়ে পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেছেন, ‘মশার উপদ্রবের কথা অস্বীকার করছি না। নগরবাসী মশার হাত থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমরা চতুর্থ প্রজন্মের লার্ভিসাইড কীটনাশক দিচ্ছি। আশা করি সুফল মিলবে।’

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। এতে কোনো গাফলতি নেই। যেহেতু শীতের সময়ে কিউলেক্স মশার উপদ্রব বাড়ায় আমাদের তৎপরতাও বেশি আছে। কি কারণে এখন বেশি মশা সেই কারণগুলো খুঁজে বের করে সমাধানে কাজ করা হচ্ছে।

ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ‘মশা নিধনে যে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে তার কার্যকারিতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। যে তিনটি জায়গায় ওষুধের পরীক্ষা করা হয় সব জায়গার রিপোর্ট প্রয়োজনের থেকেও ভালো রয়েছে।’

(ঢাকাটাইমস/২৫জানুয়ারি/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :