১৩ রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট: ৪ সরকারি কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০২১, ১৮:৪০

আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভুয়া জাতীয়তা ও জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে মিয়ানমার থেকে আসা ১৩ রোহিঙ্গা নাগরিকের বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরিতে সহযোগিতা করার অভিযোগে তিন পুলিশ পরিদর্শক ও এক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

বৃহস্পতিবার বিকালে দুদক চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এ মামলাটি করেন। দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিষয়টি ঢাকটাইমসকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পটুয়াখালী জেলা পুলিশ কন্ট্রোল পরিদর্শক এস এম মিজানুর রহমান, নোয়াখালী বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পরিদর্শক প্রভাষ চন্দ্র ধর, কুমিল্লার অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন।

কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা পরিচয়ে যে ১৩ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়েছেন তারা হলেন- মো. তৈয়ব, মো. ওয়াহেদ, মো. ইয়াহিয়া, মো. রহিম, আবদুর রহমান, নুর হাবিবা, আমানুর রহিম, আসমাউল হুসনা, আমানুর রহমান, নুর হামিদা, মো. ওসামা, নুরুল আলম ও আবদুর সাকুর।

মামলার এজাহারে বলা হয়, কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকাটি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা। সেখানে রোহিঙ্গারা সরকারি খাস জমি, বন বিভাগের জমি দখল করে বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করেছেন। মামলার আসামি তৈয়বের ১০ ভাই ও দুই বোন। পাঁচ ভাই সৌদি আরবপ্রবাসী। তাঁদের মাধ্যমে ওমরাহ ভিসা নিয়ে অনেক রোহিঙ্গা সেখানে গেছেন। বাংলাদেশের নাগরিক না হয়েও ভুয়া জন্মসনদ, জাতীয়তা সনদ নিয়ে ১৩ রোহিঙ্গা পাসপোর্টের আবেদন করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, এসব রোহিঙ্গা নাগরিকদের পাসপোর্ট করতে পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য পাঠানো হলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত পরিদর্শকেরা যাচাই-বাছাই ও তদন্ত না করে তাদেরকে বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রতিবেদন প্রদান দেন।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়ে, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের জন্মসনদ বালাম বইয়ের ৩৭১ থেকে ৩৭৪-এই ৪টি পাতা গায়েব হয়ে যায়। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় সরেজমিন তদন্ত করলে কিংবা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি জানা যেত। কিন্তু এই বিষয়ে সেই সময়ে পুলিশের বিশেষ শাখার দায়িত্বরতরা দায়িত্ব পালন করেননি।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিরা বাংলাদেশি পাসপোর্ট পান। কক্সবাজারের স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগ করলেও এই বিষয়ে তদন্তের দায়িত্বে থাকা কক্সবাজার জেলা সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে প্রতিবেদন দেন। ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে।

ঢাকাটাইমস/১৭জুন/এসআর/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত