মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রাজাকার; প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে একমঞ্চে আ. লীগ-বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও
 | প্রকাশিত : ০১ আগস্ট ২০২১, ১১:৪৬

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের এক রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা ও তার মেয়েকে বীরঙ্গনা হিসেবে তালিকাভুক্তির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল। শনিবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পীরগঞ্জ ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ইব্রাহিম খান।

ইব্রাহিম খান লিখিত অভিযোগে জানান, চলতি বছরের ১৪ই মার্চ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭৩তম সভায় পীরগঞ্জ এলাকার চিহ্নিত রাজাকার ডা. মনির উদ্দিন চৌধুরীকে মরনোত্তর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্তির সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও একই সভায় তার মেয়ে সুফিয়া বেগমকে মরনোত্তর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরঙ্গনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। অন্যদিকে যাচাই বাছাই ছাড়াই মনির উদ্দিন চৌধুরীর পুত্র সামস উদ্দিনকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেন যাতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক কমান্ডার ইব্রাহিম খান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও ২০০০ সাল থেকে তার সরকারি সুযোগ সুবিধা বন্ধ রয়েছে।

তিনি জানান, এর প্রতিবাদ জানিয়ে গত ৪ এপ্রিল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকে খসড়া গেজেট থেকে তাদের নাম বাতিল চেয়ে মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বরাবর আবেদন করা হয়। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ২২ জুন থেকে শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছেন মুক্তিযোদ্ধারা। অবিলম্বে তাদের নাম বাতিল করে নতুন গেজেট এবং মিথ্যা অভিযোগে নিজের বন্ধ করে দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালুর দাবি জানান ইব্রাহিম খান।

সংবাদ সম্মেলনে জাহিদুর রহমান জাহিদ এমপি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা নই। তবে আমার বাবা মোবারক আলী পাকিস্তান আমলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমি বিএনপি এবং নিজেকে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করি।’ তিনি বলেন, ‘ডা. মুনির চৌধুরীর বাসায় পাঞ্জাবি ক্যাপ্টেন জাহিদ নিয়মিত যাতায়াত করতেন। কিন্তু দুঃখজনক হলো, আজ তিনিই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পেলে দেশের ১৬ কোটি মানুষই মুক্তিযোদ্ধা।’

এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য ইমদাদুল হক অবিলম্বে ডা. মুনির চৌধুরী ও তার মেয়ে সুফিয়া বেগমের নাম বাতিল করে গেজেট প্রকাশের দাবি জানান।

এ সময় পৌর মেয়র ইকরামুল হক, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কৃষ্ণ মোহন রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব, স্থানীয় ২ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/১ আগস্ট/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :