মাইক্রোবাসের যাত্রী-চালক সেজে ডাকাতি করে ওরা

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:২২

নগরীর পাহাড়তলী থানার অলংকার মোড় এলাকা থেকে ডাকাতি ও হত্যার দায়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীসহ ১০টি মোবাইল সেট, একটি পাসপোর্ট ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। তারা মাইক্রেবাসের চালক ও যাত্রী বেশে ডাকাতি করে বলে জানায় পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দামপাড়াস্থ চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ সদরের মিডিয়া সেন্টার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) শামসুল আলম।

এর আগে বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন: শাহ আলম, আবুল কালাম, জাকির হোসেন প্রকাশ সাইদ প্রকাশ তৌহিদ, আল আমিন, মিজানুর রহমান প্রকাশ চান মিয়া ও নাহিদুর ইসলাম প্রকাশ হারুন।

এসময় শামসুল আলম বলেন, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানার দুবাই প্রবাসী হোসেন মাস্টার নগরীর পাহাড়তলী থানার অলংকার মোড়ে অপেক্ষা করছিলেন গাড়ির জন্য। সেসময় একটি মাইক্রোবাস ১০০ টাকা ভাড়ায় তাকে তার গন্তব্যস্থল জোরারগঞ্জে নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ভেতরে আরও যাত্রী দেখে তিনিও উঠে পড়েন সরল বিশ্বাসে। মাইক্রোবাসে যাত্রী বেশে থাকা চার ডাকাত হাতুড়ি ও স্কু ড্রাইভার দিয়ে গুরুতর আঘাত করে তার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা, দুটি স্বর্ণের আংটি, একটি মোবাইল ফোন ও তার পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার উত্তর বেতিয়ারা এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে দেয়।

পরে ভুক্তভোগী হোসেন মাস্টারকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। পরের দিন (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চমেকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত হোসেন মাস্টারের ছেলে মঞ্জুর হোসেন বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় ডাকাতি ও হত্যা মামলা করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে তদন্তে নামে সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। গোয়েন্দা তথ্যেরভিত্তিতে বুধবার ওই ঘটনায় জড়িত চারজনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। এসময় তাদের কাছ থেকে হাতুড়ি, স্কু ডাইভার, প্লাস, ২টি টিপ ছুরি, ১টি গামছা, ১০টি মোবাইল সেট, ১টি পাসপোর্ট এবং ভিসার কপি ও ১টি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে শাহ আলম, আবুল কালাম, জাকির হোসেন ও আল আমিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রবাসী হোসেন মাস্টারের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

আসামিরা বরিশাল থেকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে এসে মাইক্রোবাসের চালক ও যাত্রী সেজে টার্গেটকৃত যাত্রী তুলে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। ১২ জানুয়ারিও তারা অলংকার মোড়ে জোরারগঞ্জ থানার বারৈয়ারহাট এলাকার এক বিদেশগামী ব্যক্তিকে মাইক্রোবাসে তুলে তার পাসপোর্ট, ভিসা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

গ্রেপ্তার আসামি আবুল কালামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি ও খুলনার খালিশপুর থানায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে স্বর্ণের দোকান লুট, হালিশহরের ব্যাংক ডাকাতিসহ অসংখ্য ডাকাতির মামলা রয়েছে। এছাড়াও বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় একাধিক দস্যুতা ও ডাকাতি মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- উপ-পুলিশ কমিশনার, মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর ও দক্ষিণ) মুহাম্মদ আলী হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আব্দুল ওয়ারীশ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) পংকজ দত্ত, অতি উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) নোবেল চাকমা প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/১৩জানুয়ারি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :