কোথায় গিয়ে ঠেকবে সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২২, ২২:২০ | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০২২, ২২:১৫
সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই ঢাকায় হলিডে মার্কেটে উপচেপড়া ভিড়। নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই।

দেড় মাসের বেশি সময় ধরে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুধু বেড়েই চলছে। মৃত্যুর সংখ্যা তেমন না বাড়লেও শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। দুশোর নিচে চলে যাওয়া দৈনিক সংক্রমণ এখন ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। যে হারে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে এক দিনে ১৫ হাজার শনাক্তের যে রেকর্ড তা ভাঙতে খুব বেশি সময় লাগবে না। দৈনিক শনাক্তের হার যেখানে এক শতাংশের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল সেটা এখন ২৮ পেরিয়েছে। রেকর্ড ৩২ শতাংশ পেরোতে মাত্র সময়ের অপেক্ষা।

সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটা কেউ বলতে পারছেন না। শিগগির দেশের করোনা পরিস্থিতি আগের সব রেকর্ড ভাঙবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালন এবং টিকাদান কর্মসূচিতে জোর দেওয়াকেই আপাতত জরুরি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ মানতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব শেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু, শনাক্ত ও শনাক্তের হার সবই বেড়েছে। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪৩৪ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৮.৪৯ শতাংশে। দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৮ হাজার ১৯২ জন। আর মোট শনাক্ত ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৬ জন।

করোনার সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। গত এক দিনে শনাক্ত হওয়া প্রায় সাড়ে ১১ হাজারের মধ্যে সাত হাজারের বেশি শুধু ঢাকা বিভাগের।

আইইডিসিআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর জানান, এখন ঢাকা শহরে ৭০-৭৫ ভাগই ওমিক্রনের সংক্রমণ৷ আর ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রনের সংক্রমণ ক্ষমতা তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি৷ ফলে দ্রুত ছাড়াচ্ছে৷ কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে যাওয়ায় এখন ঢাকার বাইরে এবং গ্রামাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে৷

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী দুই-তিন সপ্তাহ এটা বাড়তে থাকবে৷ এই হারে বাড়লে দিনে সংক্রমণ ৩০-৩৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে৷ আর আগে দেখা যেত পিক-এ গিয়ে কমে যায়, কিন্তু এবার সহসা পিক থেকে নামবে না৷ এবার ছাড়ানোর হার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি৷ হাসপাতালেও আগের পিকের সমান রোগীই যাবে।’

আলমগীর বলেন, ‘যাদের টিকা দেওয়া আছে তারা আক্রান্ত হলেও বেশি জটিলতা হবে না৷ কিন্তু যারা এখনো টিকা দেননি এবং বয়স্ক ও নানা শারীরিক জটিলতা আছে তাদের জন্য বিপদ৷ তাই টিকা নিতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে৷ মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি৷’

এদিকে সরকার সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে। তবে সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না এমন অভিযোগের মধ্যে শুক্রবার নতুন করে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানে ১০০ এর বেশি লোক সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অর্ধেক জনবল দিয়ে অফিস চালানোর নির্দেশনা শিগগির জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তবে সরকারের এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও চলছে বাণিজ্যমেলা, পর্যটন ও বিনোদন স্পটে জনতার ঢল নামছে। সামনে শুরু হচ্ছে বইমেলা। এছাড়া জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে নেই বিশেষ কোনো উদ্যোগ। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিগগির স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর অবস্থানে যাবে সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক গুণ বেশি গতিতে সংক্রামক ওমিক্রন চাইলেই ঠেকানো সম্ভব হবে না। তবে পরিস্থিতি যেন ভয়াবহ আকারে না যায় সে ব্যাপারে এখনই সরকার ও জনসাধারণের সতর্ক হওয়ার বিকল্প নেই।

(ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :