আ.লীগ বিরোধিতায় অস্বস্তিবোধ করেন না রেজা কিবরিয়া, কেন?

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৫৬ | প্রকাশিত : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:৫৪

বাবা শাহ্ এএমএস কিবরিয়া ছিলেন আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রী। ছিলেন দলের সভাপতির রাজনৈতিক উপদেষ্টা। কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও ছিলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। দলীয় এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় খুন হন তিনি। প্রথিতযশা এই অর্থনীতিবিদের ছেলে শাহ্ কিবরিয়াপুত্র ড. রেজা কিবরিয়া সক্রিয় আওয়ামী বিরোধী রাজনীতিতে। ‘আওয়ামী বিরোধিতায়’ কোনো অস্বস্তি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। বললেন, ‘অস্বস্তি হয় না কখনো। প্রত্যেকটি মানুষের রাজনৈতিক চিন্তার অধিকার আছে। আমার বাবা কখনো কিছু চাপিয়ে দিতে চাইতেন না। আমার নিজের চিন্তা করার মতো ক্ষমতা আছে, এটাতে তিনি খুশি হতেন।’ গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা টাইমসের সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

গুলশানের বাসভবনে বসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘পারিবারিক সূত্রে একটা দলে ঢুকে কিছু পাওয়া এটার আমি পক্ষপাতি না। জনগণের মধ্যে আব্বার পরিচিতি ছিল, এটা পেয়েছি। একজন ভালো বাবা পেয়েছি। এর বেশি সুবিধা আমি নিইনি বা চাইনি।’

সম্প্রতি ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভবনা নেই, উল্টো আরো নতুন নিষেধাজ্ঞা আসছে’- বলে মন্তব্য করেন ড. রেজা। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যা বলেছি আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটের ভিত্তিতে। আমার বিশেষ কোনো সোর্স নেই। গুগলে সার্চ করলে সব পাবেন। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগে ম্যাগনিটস্কি অ্যাক্ট, ম্যাগনিটস্কি লেটার বাংলাদেশ পড়ে দেখুন। সেখানে নামও পাবেন আরও অনেক। এগুলো গোপন কিছু নয়। আরো অনেক কিছু দেখতে পাবেন। আমার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। কোনো নামও নেই। কিন্তু শিগগির আরেকটা নিষেধাজ্ঞা আসবে, এটা জানি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শাহ্ কিবরিয়াপুত্র বলেন, ‘অন্য কিছু দেশেও এ ধরনের আলোচনা চলছে বলে জানি। কিছু খবরে কাগজে পড়েছি। কানাডায় একটা আইন আছে ‘ভিক্টমস ফরেন করাপ্ট অফিসিয়ালস অ্যাক্ট ২০১৭’। এই আইনে কাজ চলছে। সেটাও কিছুদিনের মধ্যে দেখা যাবে। বৃটেনেও একটা আইন আছে, সেটা নিয়েও কাজ চলছে। ইউরোপীয় ম্যাগনিটস্কি অ্যাক্টেও বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ারের সিনেটেও কয়েকজন সিনেটর এ ব্যাপারে কথা বলেছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো সবই প্রকাশ্য উৎস।’

অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষা নেওয়া রেজা কিবরিয়া দেশে ফেরেন ২০১৮ সালে। তিনি আইএমএফে কর্মরত ছিলেন। চাকরি ছেড়ে ফিরে তিনি আকস্মিকভাবে যোগ দেন গণফোরামে। দলটির সাধারণ সম্পাদকও করা হয় তাকে। কিন্তু দু-বছরের মাথায় গণফোরাম ছেড়ে গণঅধিকার পরিষদ নামে নতুন দল গড়েন তিনি। দলটির আহ্বায়ক তিনি। সদস্য সচিব করা হয়েছে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে।

কেন যোগ দিয়েছিলেন গণফোরামে? জবাবে রেজা কিবরিয়া জানান, কেবল ড. কামাল হোসেনকে দেখেই দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বললেন, ‘ড. কামাল হোসেনকে আমি চিনতাম অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমি যখন ছাত্র, তখন তিনি অধ্যাপক। তার সঙ্গে আমার গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তখন থেকেই।’

তাহলে হঠাৎ কেন ছেড়ে এলেন গণফোরাম? জবাবে তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থাকলেও গণফোরামের অনেক জেলার এবং অন্য সব নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম এটা নির্বাচনমুখী দল না। আমি তো দেশে এসেছি নির্বাচন করতে। নির্বাচনে দাঁড়াতে। যেখানে সেই দলের নির্বাচনে কোনো আগ্রহ নেই, সেখানে আমার থাকা ঠিক ছিল না।’

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিল রেজা কিবরিয়াকে। তার পর পরই বিরোধ দেখা দেয় গণফোরামে। তাকে সাধারণ সম্পাদক করাতেই কি দেখা দিয়েছিল দ্বন্দ্ব? অর্থনীতিবিদ ড. রেজা বললেন, ‘বিরোধ দেখা দিয়েছিল সংসদে যাওয়া, না যাওয়া নিয়ে। কয়েকজন সংসদে যাওয়া নিয়ে শক্ত বিরোধিতা করেছে। যাওয়ার বড় একটা যুক্তি ছিল দলের নিবন্ধন ঠিক রাখা। একজন সংসদ সদস্য থাকলে নিবন্ধনটা চিরকালের জন্য ঠিক থাকে। তা না হলে বছর বছর নিবন্ধন করা অনেক ঝামেলার কাজ। সেই কারণে সংসদে যাওয়ার পক্ষেই বেশি মত ছিল। সে অনুযায়ী সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’ তবে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তার সাধারণ সম্পাদক হওয়া নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু হবে বলে মনে করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়াপুত্র। বললেন, ‘একটা গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে মনে করি। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। পরিবেশ হয়তো এই মুহূর্তে তৈরি হয়নি। কিন্তু হচ্ছে।’ গণঅধিকার পরিষদ আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে বলে মনে করেন? নতুন দল হিসেবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া কতদূর? জবাবে তিনি বলেন, ‘নিবন্ধন নিয়ে আমি চিন্তিত নই। নিবন্ধনের শর্তগুলো মানলে আমি নিশ্চিত এটা পাবো। এটা নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা নেই।’

ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছে কিনা জানতে চাইলে বিষয়টি একবাক্যে নাকচ করে দেন শাহ কিবরিয়াপুত্র। এমনকি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোট গড়ার সামান্যতম সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাবনাই নেই আমার। কারণ এই দলটি সুশাসন, গণতন্ত্র, ভোটের অধিকারের দিকে যেখানে ছিল সেখানে অনেক দূরে চলে এসেছে।’

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্যকোনো জোটে যোগ দেওয়ার ভাবনা আছে কিনা? ড. রেজা বলেন, এখনো এ বিষয়ে বলার সময় আসেনি। বলেন, ‘হয়তো আমরা ৩০০ আসনে নিজেরাই প্রার্থী দিব। সেই সিদ্ধান্ত নিব নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে। কারণ ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘অ্য উইক ইজ অ্য লং টাইম ইন পলিটিক্স।’ এক সপ্তাহে পরিস্থিতি অনেক পাল্টে যেতে পারে। দেখি কী হয়।’

বাবা শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার ১৭ বছর পার হয়েছে। কিন্তু বিচার পাননি। এ নিয়ে খেদও আছে তার মনে। বললেন সে কথাও। ‘১৭ বছরেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। বিএনপির গাফলতি ছিল দুই বছর। ফখরুদ্দীন সরকারের সময় দুই বছর, এখন আওয়ামী লীগের ১৩ বছর হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বিচার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তবে এতে আমরা সন্তুষ্ট নই। কোনো একদিন নিশ্চয়ই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমার বাবার হত্যার বিচার করব।’

তাহলে কি আওয়ামী লীগের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির পেছনে বাবা হত্যার বিচার যথা সময়ে না হওয়া কারণ? জবাবে তিনি বললেন, ‘না, এটা এমনটা নয়। আমার মনে হয়েছে আওয়ামী লীগ তাদের আদর্শের জায়গা থেকে অনেকটা সরে এসেছে। বাবা যখন মারা গেলেন, তখন অনেকেই বলেছিলেন আওয়ামী লীগ থেকেও সংসদ সদস্য হতে পারো, আবার স্বতন্ত্রও হতে পারো। কারণ নবীগঞ্জ, বাহুবলের মানুষ আব্বার প্রতি খুবই আস্থাশীল ছিলেন। আমাকে হারাবার মতো বাংলাদেশের কোনো মানুষের বা দলের ছিল না। আমি সংসদ সদস্য হতে পারতাম। কিন্তু আমি হতে চাইনি। ইচ্ছে হয়নি।’

ঢাকাটাইমস/ ৩ ফেব্রুয়ারি/ এইচএফ

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :