মাশরুম চাষ শিখতে বিদেশ যেতে চান ৩০ কর্মকর্তা

যৌক্তিকতা জানতে চেয়েছেন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২২, ১১:১৪ | প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট ২০২২, ০৮:০৪

অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বন্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের মধ্যেই মাশরুম চাষ শিখতে বিদেশ যেতে চাইছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৩০ জন সরকারি কর্মকর্তা। ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তারা বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব দিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনে। এই ভ্রমণের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পে অপচয় বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ওই কর্মকর্তারা বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও আমরা এখনও অনুমতি দেইনি। এ প্রকল্পে বিদেশ সফরের প্রয়োজন আছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা এসেছিলেন। আমি প্রকল্পের যৌক্তিকতা জানতে চেয়েছি।’

জানা গেছে, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ওই ৩০ কর্মকর্তার প্রস্তাবিত বিদেশযাত্রায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা প্রকল্প ব্যয়ের ১.২০ শতাংশ। এতে প্রতি কর্মকর্তার ভ্রমণব্যয় হবে ৪ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। এতে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

অনুমোদন পেলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো, বিভিন্ন ধরনের মাশরুমের চাষ ও সংরক্ষণ উপযোগী ২০টি টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ। উচ্চ মানসম্পন্ন মাশরুম ও মাশরুমজাত পণ্য উৎপাদন ও সম্প্রসারণ, ৮০০ জন মাশরুম শিল্পোদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বাড়ানো।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- ৯৫টি ছাদ প্রদর্শনী, ৮০০টি মাশরুম উৎপাদন প্রদর্শনী স্থাপন। ৬০০ বর্গমিটার ডরমিটরি ভবন এক্সটেনশন, ৪৫০ বর্গমিটার ল্যাবরেটরি কাম অফিস ভবন এক্সটেনশন, ৯৫০ বর্গমিটার ওয়ার্কশপ কাম ল্যাবরেটরি ভবন, একটি ইনকিউবেশন কক্ষ, ৩৫টি ভার্মি কম্পোস্ট ইউনিট নির্মাণ এবং ৫০০ ঘন মিটার ভূমি উন্নয়ন।

এ ছাড়া ২৭ ব্যাচ উদ্যোক্তা, ৮০০ ব্যাচ দলভুক্ত চাষি, ১০০ ব্যাচ ছাদবাগান, ৮০০ ব্যাচ রিফ্রেশার, ২৯ ব্যাচ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) ও উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা (এসএএইচও), ৭ ব্যাচ প্রশিক্ষক, ৯ ব্যাচ সিনিয়র কর্মকর্তা, ৬ ব্যাচ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ এবং ১৬০টি মাঠ দিবস, ৫টি মাশরুম মেলা ও ১৪ ব্যাচে উদ্বুদ্বকরণ ভ্রমণ রয়েছে মূল র্কাযক্রমে।

(ঢাকাটাইমস/০৩আগস্ট/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রশাসন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :