দ্রব্যমূল্য এতো বৃদ্ধির অংক মেলাতে পারছি না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ১৮:২৭ | প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট ২০২২, ১৭:৫০

দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, তাতে ‘অংক মেলাতে পারছেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম যতোটা বেড়েছে সেই তুলনায় অন্যান্য পণ্যের দাম এক টাকা কিংবা কয়েক পয়সা বাড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু যে হারে সব পণ্যের দাম বাড়ছে তাতে তিনি উদ্বিগ্ন।

শুক্রবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের পক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। যে ভোজ্যতেল ৯০ টাকা ছিল সেটা হয়ে গেল ১৫০ টাকা (মূলত বাজারে প্রায় ১৯০ টাকা)। আমি এটা কোনোভাবে অংকে মেলাতে পারি না। সর্বমোট ডিজেলের দাম বেড়েছে ২৮ টাকা প্রতি লিটারে। সে হিসেবে অন্যান্য পণ্যে বাড়তি দাম ধরা উচিত ছিল এক টাকা বা কয়েক পয়সা। কিন্তু একি কাণ্ড! যে এত দাম! সবকিছুর দাম হু হু করে বেড়ে উঠল। আমরা এই জন্য খুব উদ্বিগ্ন। শেখ হাসিনার সরকার সাধারণ মানুষের বন্ধু। আমরা সরকারে আছি সাধারণ লোকের জন্য। মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইসরাইলে যুদ্ধ হলে তেলের দাম বাড়ে আর পৃথিবীতে খাদ্য ঘাটতি হয়। এখন ৫০ বছর পরে আমি তাজ্জব, এখনো তেলের দাম বেড়েছে, যুদ্ধ একটা লেগেছে আর খাদ্য দ্রব্যেরও দাম বাড়ে। এটা খুব আশ্চর্যের বিষয়। তবে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এ দেশটা আমাদের। দেশে যদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হয় তাহলে যারা অপপ্রচার করে তারাও ভালো থাকতে পারবে না।’

দেশে অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা গড়তে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা আছেন বলেই আমাদের দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে। অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুললে সবার মঙ্গল হবে। আর এদেশে যত নাগরিক আছে সে যেকোনো ধর্মের হোক, সবার সমান অধিকার। শেখ হাসিনা যদি সরকারে থাকেন তাহলে স্থিতিশীলতা থাকে। আর স্থিতিশীলতা থাকলেই আমাদের উনয়নের মশাল অব্যাহত থাকবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে কিছু লোক উস্কানিমূলক কথা বলে। যারা তিলকে তাল করে। এদের তিলকে তাল করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাহলে আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি থাকবে।’

এর আগে তিনি জাতির পিতার সমাধি সৌধ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া পৌর মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফোরকান বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/১৯আগস্ট/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত