তিন যুগ ধরে ভাত খান না নীলফামারীর রাজু

নুর আলম বাবু, নীলফামারী
 | প্রকাশিত : ১২ জুলাই ২০২৩, ১২:২৭

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাজু মিয়া। উনুনের পাশেই বসেছেন প্লেট ভর্তি রুটি নিয়ে। চলছে চা দিয়ে রুটি খাওয়ার লড়াই। জীবন যুদ্ধে ভাতের পরিবর্তে সঙ্গী করে নিয়েছেন রুটি, মাছ, মাংস, ফলমূল আর ভাজা-পোড়া।

নীলফামারীর সৈয়দপুরের ঢেলাপীর বাজারে সুস্থ দেহ নিয়ে ১৭ বছর ধরে চালাচ্ছেন পানের দোকান। জন্মের ছয় মাস বয়সে বাঙালি সংস্কৃতির রীতি অনুযায়ী মুখে ভাতও দেয়া হয়েছিল তার। সেসময়ে দেখা দিয়েছিলো শিশু রাজুর গলায় ভাত আটকে নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দাদির আদরের নাতি হওয়ায় পেট বড় হয়ে যাওয়ার ভীতিও কাজ করছিলো অনেকটাই। সেই থেকেই আর রাজু মুখে তুলেননি ভাত।

ভাত না খাওয়ার বিষয়ে রাজু মিয়া বলেন, আমি চার ভাই-বোনের বড়। এজন্য আমার দাদির অনেক আদরের ছিলাম। শুনেছি আমার যখন ছয় মাস বয়স, তখন আমার মুখে ভাত তুলে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু আমি নাকি খেতে পারি নাই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে পড়ছিলো। এজন্য তখন থেকে আমাকে আর ভাত খাওয়া হয়নি। তাছাড়া আমি যখন বেড়ে উঠেছি, তখন থেকে আর মুখে ভাত নিতে ইচ্ছে করে না। কি রকম একটা গন্ধ লাগে। তাছাড়া আমার দাদিও আমাকে বলেছে ভাত খেলে পেট বড় হয়ে যাবে। সেটাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমি প্রায় ১৭ বছর ধরে একটা পানের দোকান করে আসছি। ভাতের পরিবর্তে এসব খাবার খেয়েও সুস্থ স্বাভাবিক আছি। আমাকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে আমার ১০ বছর বয়সের একটি কন্যা সন্তান।

রাজু মিয়ার স্ত্রী শানু বেগম বলেন, আমার বিয়ের আগেই শুনেছি উনি ভাত খায় না। তবে আমার পরিবারের মতে তার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু বিয়ের দিন তার জন্য পোলাও, বিরিয়ানিসহ বিভিন্ন আইটেম করা হয়েছিলো। কিন্তু তিনি এসব খায়নি। পরে রুটি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে সেসব খেয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে তার পছন্দের খাবার তৈরি করতে আগে থেকে বলে রাখে। আমিও প্রতিদিন আমাদের খাবার তৈরির পাশাপাশি তার খাবার তৈরি করে থাকি। শুরুর দিকে একদিন বলেছিলাম ভাত খাও কিন্তু তিনি খাইতে রাজি হয় নাই।

রাজুর মা বলেন, আমাদের বড় সন্তান রাজু। সে আমাদের ও ওর দাদা-দাদির অনেক আদরের। ওর যখন ছয় মাস বয়স তখন ভাত নরম করে মুখে দিয়েছিলাম। কিন্তু ও সব গুলো ভাত মুখ থেকে বের করে ফেলেছি। এসময় তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে ছিলো কিছুক্ষণ। তার পর থেকে ওর দাদি আর ওকে ভাই খাইতে দেয় নাই। বড় হয়েও ভাত খাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সে ভাত খাইতে পারে না। ভাত মুখে দিলেই বমি করে ফেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

রাজুর প্রতিবেশি জসিম উদ্দিন বলেন, রাজু আর আমার দোকান পাশাপাশি। আমরা দেখেছি সে কখনও ভাত খায় না। আমরা এই কথাগুলো কোথাও গিয়ে আলোচনা করলেও কেউ বিশ্বাস করে না। তবে রাজু ভাত না খেলেও সুস্থ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আব্দুর রহিম বলেন, ভাতের বিকল্প শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা সম্ভব। তবে রাজুর ভাত না খাওয়ার বিষয়টি অভ্যাসগত কারণ। একটা মানুষ বেঁচে থাকতে গেলে সাধারণত তিনটি জিনিসের প্রয়োজন আমিষ, শর্করা আর ফ্যাট। বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ ভাত খায় না। তারা অন্যান্য খাবারের মধ্যে আমিষ, শর্করা আর ফ্যাটের চাহিদা মিটিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ঢেলাপীরের সরকারী আবাসন প্রকল্পে থাকেন মমতাজ উদ্দীনের ছেলে রাজু মিয়া। ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে ভারতের বিহার রাজ্য থেকে রেলওয়ে কারখানায় চাকরির সুবাদে সৈয়দপুরে এসে বসবাস শুরু করেন রাজুর পরিবার।

(ঢাকাটাইমস/১২জুলাই/এসএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :