সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে বিএনপির ধ্বংস অনিবার্য: হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৭:৫৬

বিএনপি সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে বিএনপির ধ্বংস অনিবার্য। তারা কখনো জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।

হানিফ বলেন, বিএনপি নেতৃত্বহীনতা, ভুল রাজনীতি ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভ্রান্ত রাজনীতির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। সন্ত্রাস করে কখনো জনগণের কল্যাণ করা যায় না। সন্ত্রাস করে কখনো কোনো সংগঠন সফলতা লাভ করতে পারেনি।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় শ্রমিক লীগের আয়োজিত বিএনপি-জামায়াতের আগুন, পেট্রোল বোমা হামলায় ট্রাক ড্রাইভার বেলাল হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আমরা দেখেছি পৃথিবীর বহু দেশে রাজনীতির নামে যারা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। বিএনপিও একদিন ধ্বংস হয় যাবে।

তিনি বলেন, এদেশের জনগণ ভেবেছিল ২০১২ থেকে ২০১৫ সালে বিএনপি যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছিল, যেভাবে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছিল, সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছিল তারা, অপরাধের ভুল বুঝতে পেরে হয়তো তারা আর এসব কর্মকাণ্ডে যাবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক 'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী'। বিএনপিও আজকে সেই পথে চলে গেছে। এদের ভেতরে শিষ্টাচার ও গণতন্ত্রের চর্চা নেই। মূল্যবোধ নেই। তারা শুধু ধ্বংস করতে জানে। তাদের মধ্যে শুধু ধ্বংসাত্মক মনোভাব দেখা যাচ্ছে।

দেশে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে পেট্রোল দিয়ে ট্রেনে-ট্রাকে-বাসে আগুন দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, সাধারণ মানুষকে পেট্রোল দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এই বিএনপি-জামায়াত ২০১৩ সালে যখন যুদ্ধাপরাধীদের রায় হলো তখনই তারা দেশকে অচল করার জন্য নাশকতা করেছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল করার জন্য তথাকথিত আন্দোলনের নামে প্রায় ৫০০ ভোট কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছিল, রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংস করেছে। ৭২ জন মানুষকে গুলি করে, কুপিয়ে হত্যা করেছে। হাজার হাজার মানুষকে আহত করেছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা আবার নতুন করে আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে। এই দেশে বহু আন্দোলন হয়েছে। আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। কিন্তু হরতাল-অবরোধে কখনো কোনো গাড়ি পোড়াতে হয়নি। গাড়িতে আগুন দেওয়া সুস্থ রাজনীতি হতে পারে না। বিএনপি-জামায়াত হরতালের নাম করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে। এগুলো রাজনীতির অংশ নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে দেশকে কিছুই দিতে পারেনি উল্লেখ করে হানিফ বলেন, তারা বাংলাদেশকে পরপর পাঁচবার বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছিল। দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের চারণভূমি বানিয়েছিল। বিশ্বের বুকে সস্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তারা কীভাবে আবারো ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে? দেশবাসী এটা ভাবতেই অবাক হয়ে যায়।

'বিএনপির নেতা কে?' এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। রাজনীতি করার মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। আর লন্ডনে থাকা তারেক রহমান তো কোনো রাজনৈতিক নেতা নয়, সন্ত্রাসী নেতা। তার সমস্ত কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসী চিন্তাধারায় পূর্ণ। এতটাই গণধিকৃত যে বিএনপি নেতারা বলতে পারে না ক্ষমতায় গেলে তাদের নেতা কে হবে। কারণ তারা জানে তারেক রহমানের নাম শুনলে মানুষ ঘৃণা করে। এটা লজ্জায় সংকোচে তারা বলতে পারে না।

হানিফ বলেন, সন্ত্রাসী তারেক রহমানের দ্বারা এই দেশের কোনো কল্যাণ, উন্নয়ন হতে পারে না। জনগণ জানে বলে বারবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর এজন্য তারা জনগণের ওপর প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে আগুন সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে রাজনৈতিক সফলতা পাওয়া যাবে না। এই সরকার এতো দুর্বল সরকার নয়। এই সরকার জনগণের সরকার। ১৭ কোটি মানুষের আশা ভরসার ঠিকানা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা আজ সারা পৃথিবীর কাছে বিস্ময়। শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞার কারণে এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। উন্নয়নের এই ধারা নষ্ট করা যাবে না।

(ঢাকা টাইমস/০৪ডিসেম্বর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :