করোনায় ধূমপায়ীদের মৃত্যু হার ৩ গুণ বেশি: গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ২০:১১ | প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০২৪, ১৯:২৭

দেশে কোভিড-১৯ মহামারিতে অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ী রোগীদের মৃত্যুর হার তিন গুণ বেশি ছিল এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি রোগীর।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণার ফল প্রকাশ করে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারিতে ধূমপায়ীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল দশমিক শতাংশ, ধোঁয়াবিহীন তামাক বা এসএলটি (জর্দা-গুল-সাদা পাতা) ব্যবহারকারীদের মধ্যে দশমিক শতাংশ এবং অধূমপায়ীদের মধ্যে দশমিক শতাংশ।

দ্যা রিলেশনশিপ বিটউইন স্মোকিং অ্যান্ড কোভিড-১৯ আউটকামস ইন টার্মস অফ মর্বিডিটি অ্যান্ড মর্টালিটি ইন বাংলাদেশশীর্ষক এই গবেষণা পরিচালনা করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন। স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েরস্বাস্থ্য বাতায়ন কোভিড-১৯ টেলিহেলথ সার্ভিস সেন্টার’- ১২ জুন ২০২০ থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত লাখ ২৭ হাজার ৭১ জন সেবা গ্রহীতার মধ্যে হাজার ৬০৭ জনের ওপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা। তিনি বলেন, তামাকের ভয়াবহতা রুখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নানা গবেষণা পরিসংখ্যান দিয়ে আমরা সহজেই বুঝতে পারি তামাক আমাদের জন্য কত ক্ষতিকর। তাই তামাক রুখতে সবার অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি এবং আমরা যেকোনোভাবে এক্ষেত্রে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিংয়ের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ এমপি বলেন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশের আন্দোলন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে। সংসদ সদস্যরা অনেক সচেতন এবং উদ্যমী। সবাই সবার জায়গা থেকে কাজ করেছেন। করোনার সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্কের নিরূপণে যে গবেষণা করা হয়েছে তার ফলাফলে আমরা শঙ্কিত। আমাদের মধ্যে তামাক বিষয়ে দ্রুত সচেতন হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আফতাব উদ্দীন সরকার এমপি বলেন, সংক্রামক এবং অসংক্রামক রোগসহ তামাকের অন্যান্য ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের তামাক চাষ নিয়েও সচেতন হতে হবে। দেশের স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে তামাকের নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. আবু সালেহ মো. নাজমুল হক এমপি বলেন, ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা গবেষণার ফলাফলে দেখতে পাই যে ধূমপানের পাশাপাশি ধোঁয়াবিহীন তামাকের প্রভাবেও করোনায় অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই বিপুল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করতে হবে।

ধূমপান, পরোক্ষ ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকের সঙ্গে কোভিড-১৯' মৃত্যুহার এবং অসুস্থতার সম্পর্ক নিরূপণে পরিচালিত গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রধান গবেষক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ। গবেষণার ফল প্রকাশে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়া ধূমপায়ী রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল অধূমপায়ীদের থেকে ৭৩ শতাংশ বেশি এবং ধূমপান ছেড়ে দেয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা ৪০ শতাংশেরও বেশি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীদের মধ্যে মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল ৩৬ শতাংশ বেশি।

ডা. নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ জানান, গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য মতে কোভিড-১৯ এর উচ্চ মৃত্যুহারের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস মেলিটাস (টাইপ-), হাইপার টেনশন, কিডনির সমস্যা, নিদ্রাহীনতা এবং কার্ডিওভাসকুলারসহ অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিত করা হয়।

গবেষণার সুপারিশে বলা হয়েছে পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র এবং গণপরিবহনকে ১০০ ভাগ ধূমপানমুক্ত রাখা, কার্যকর করারোপের মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধি করে তামাক পণ্য তরুণদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে রাখা, তামাকের যেকোনো প্রচারণা নিষিদ্ধ করাসহ বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারাকে শক্তিশালী করে তামাকের বিস্তার রোধ করা জরুরি। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে তামাক সম্পর্কিত চিকিৎসা এবং তামাক ব্যবহার রোধে কার্যকর কাউন্সিলিং করার জন্য।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া কোভিড-১৯ মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭০৪ মিলিয়ন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে ২২ মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মারা গেছেন ২৯ হাজার ৪৯৩ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৯ জন। করোনাকালীন সময় থেকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনার আওতায় স্বাস্থ্য বাতায়ন দেশে করোনা রোগীদের সেবা দানে সচেষ্ট ছিল।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পরিচালক . মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে তামাক বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তা সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা গবেষণার ওপর প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।

(ঢাকাটাইমস/২৮মার্চ/টিআই/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :