ঈদ ফেরত যাত্রায় পদে পদে ভোগান্তি

হাসান মেহেদী, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৮:৫৬ | প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৬:৩২

আর একদিন পরই শেষ হচ্ছে ঈদের ছুটি। রবিবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের পর সোমবার (১৫ তারিখ) থেকে সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে।

ইতোমধ্যে জীবিকার তাগিদে রাজধানীর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন অনেকেই। তবে ফিরতি পথে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

গণপরিবহনসহ দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ, ট্রেনে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখ ও টার্মিনালে এখন ঢাকামুখী মানুষের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সড়ক পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। এছাড়াও নৌ পথেও রয়েছে নানা অনিয়ম ও অপকর্ম।

ঈদ শেষ হলেও এখনও ঈদ বকশিসের নামে বাড়তি ভাড়ার দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে যাত্রীদের। এসব বিষয়ে অভিযোগ কিংবা প্রতিবাদ করেও কোনো ফায়দা হচ্ছে না। কারণ হিসেবে দেখা গেছে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যেই হচ্ছে এমন কর্মকাণ্ড। তবে তাদের নীরব ভূমিকায় এবারের ঈদ যাত্রায় ব্যাপক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার বেলা ১১টায় বরিশাল নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, স্বজনদের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। কারো হাতে ব্যাগ, কারো কোলে বাচ্চা, কেউ আবার একা। ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে যারা নাড়ির টানে ঢাকা ছেড়েছেন, তারা ঈদস্মৃতি সঙ্গে নিয়ে ফিরছেন কর্মস্থলে। ঈদের দ্বিতীয় দিনেই বরিশালের এই বাস টার্মিনালে ঢাকা ফেরা মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

একাধিক যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে ঢাকা টাইমস জানতে পেরেছে, বরিশালের নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনাল ও টার্মিনালের বাইরে থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ভাড়া রাখা হচ্ছে ৮০০-১৫০০ টাকা। বেশিরভাগ গণপরিবহনগুলোতে ধারণক্ষমতার বাইরেও যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন শফিকুল ইসলাম। সোমবার তার অফিস খুলবে, দুইদিন হাতে রেখেই ভিড় এড়াতে সপরিবারে নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকায় আসার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। লঞ্চ যাত্রায় সময় বেশি লাগায় তিনি বাসে যাত্রা করছেন।

ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, এবার ঈদের মতো ভোগান্তিতে আর কখনো পড়তে হয়নি। ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার আগে যেমন ভিড় ছিল তেমন দিগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে। আবার ঢাকা যাইতেও দিগুণ ভাড়া দিতে হচ্ছে। ঈদে সব টাকা খরচ করে ফেলেছি, এখন বাড়তি ভাড়া দিয়ে ঢাকায় যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

এদিকে এই রুটে ঢাকা মহানগরীতে চলাচলকারী বেশকিছু লোকাল পরিবহনকেও (বাস) চলাচল করতে দেখা গেছে। লক্কড়ঝক্কড় বাস অতিরিক্ত যাত্রী বহনে নেমেছে প্রতিযোগিতায়। ওই সকল বাসের ভাড়া কিছুটা কম রাখতে দেখা গেছে।

বরিশাল থেকে ছেড়ে রাওয়া রাইদা পরিবহনে শুক্রবার যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে এইসকল পরিবহনে গুণতে হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা ভাড়া। তবে বাসগুলোতে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। অনেকেই দাঁড়িয়ে ঢাকায় পারি জমাচ্ছেন।

এই পরিবহনে করে ঢাকায় এসেছেন আয়শা আক্তার। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, বরিশাল থেকে ঢাকার ধোলাইপার নামিয়ে দিতে তারা আমার কাছ থেকে ৮০০ টাকা ভাড়া নিয়েছে। তবে বাসটি মাওয়া রুটে চুনকুটিয়া এলাকায় আমাকে নামিয়ে দিয়েছে। এই রুটে ধোলাইপার যেতে কোনো পরিবহন পাচ্ছি না। অনেক্ষণ পায়ে হেঁটেই মহাসড়কের পাশ দিয়েই হেঁটে যেতে বাধ্য হয়েছি।

রাইদা পরিবহনের পাভেল নামের এক কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে কথা হয় ঢাকা টাইমসের। তিনি বলেন, যাত্রী বেশি থাকায় আমরা ঢাকা থেকে বরিশাল রুটে বাস ছাড়ছি। বিভিন্ন নেতাদের টাকা দিতে হয়, তাই ভাড়া একটু বেশি নিতে হচ্ছে। তাছাড়াও ঈদে যাত্রী বেশি থাকায় অনেকেই দাঁড়িয়ে হলেও বাসে উঠছেন বলেও জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাটি, কালাইয়া, শরিয়তপুর, মাদারীপুর,চাঁদপুর নৌ রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে শনিবার সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। টার্মিনালগুলোতে সকাল থেকেই যাত্রীরা আসতে শুরু করেন। এ সকল রুটের লঞ্চের ভাড়া সীমিত থাকলেও কেবল মিলছে না দিগুণ ভাড়া দিয়েও।

কিছু কেবিন খালি থাকলেও তাতে অন্যান্য দিনের তুলনায় দিগুণ ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে। এছাড়াও অনেক লঞ্চে ডেকের সিটও ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রবেশের টিকিটের পাশাপাশি মালামালের জন্য ভাড়া রাখা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীদের মালামাল প্রবেশে টার্মিনালে কোনো ভাড়া নেওয়া নিষেধ। এছাড়াও অনেক লঞ্চে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামালের ভাড়াও চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও আঞ্চলিক এলাকাগুলো থেকে আগত যাত্রীদের কাছ থেকে কথা বলে জানা গেছে, নৌপথে বিভিন্ন রুটে ছোট ছোট নদি পাড় হতে স্টিমার বা টলারে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এছাড়াও বিভিন্ন ফেরিতেও যাত্রী হয়রানির তথ্য রয়েছে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জের গোমা ফেরিঘাট, ডিসি রোডের টলারঘাট, বরিশালের কাউয়ার চর টলার পারাপাড়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ঈদ সালামির নামে দিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

বরিশাল থেকে ঢাকায় সুমন নামের এক যাত্রী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বাকেরগঞ্জ থেকে ঢাকা আসতে আমার বিভিন্ন রুট বদলানো লাগছে। প্রতিটা রুটেই অনেক ভোগান্তিতে পরছি। ডিসি রোডের টলার ভাড়া আগে আছিলো ২০ টাকা, ঈদ শেষ তারা এহনো ৪০ টাহা রাখছে। এরপর গোমা ফেড়িঘাট থেকে টলারে পার হতে ১০ টাহা আছেলে আগে, এইবার ৩০টাহা দেতে হইছে। লগে একটা টেবিল গ্যান আছেলে, এই ফ্যানের জন্য তারা ৫০টাহা ভাড়া রাখছে। কাউয়ার চলের নদী পার হইতে আগে দেতাম ১০টাহা এহন দেওয়া (শুক্রবার) লাগছে ৩০টাহা। নতুল্লাবাদ থেইকা বাসে ঢাকা যাইতাম ৬-৭শ টাহায়। বাসের টিকিট পাইনাই। লোকাল বাসে উইঠা সাড়ে ৩ঘন্টার পথ ৫ঘন্টায় ঢাকায় আইছি ১০০০টাহা দিয়া। এমন ভোগান্তি গত ঈদেও পোহাই নাই।’

এদিকে দেশের উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গখ্যাত এলাকাগুলো থেকে জানা গেছে, ঈদে ট্রেনে টিকিট না পেলেও ছাদে উঠে ঢাকায় যেতে অনেকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে কয়েকটি রেলসিন্ডিকেট। এছাড়াও বাসে করে ফিরতি পথেও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি (মিডিয়া) শামসুল আলম ঢাকা টাইমসকে বলেন, এবারের ঈদে যাত্রীদের মধ্যে অনেক স্বস্তি ছিল। সড়ক-মহাসড়কে বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশ বরাবরের মতোই কাজ করেছে। ঈদের ফিরতি যাত্রায়ও যাত্রীদের ভোগান্তি হবে না। এবার মানুষ অনেক লম্বা ছুটি পেয়েছে তাই একযোগে যাত্রীদের চাপ পড়ছে না।

ণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আঞ্চলিক এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়ে থাকতে পারে। তবে সেটা স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনী নজরদারি করছে।

তিনি দাবি করেন, এবার ঈদে সড়কে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনাও ঘটেনি। এমনকি মহাসড়কে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি।

(ঢাকাটাইমস/এইচএম/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :