জামালপুরের পাঁচটি আসনেই বিজয়ের পথে বিএনপি

স্বাধীনতার পর এই প্রথম জামালপুর জেলার সব সংসদীয় আসনে একযোগে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বিএনপি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ‘অধ্যুষিত’ হিসেবে পরিচিত জামালপুর জেলার পাঁচটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন বলে মাঠপর্যায়ের তথ্য ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জামালপুরে ভালো ফল করলেও দুটি আসন হাতছাড়া হয়েছিল। তবে এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন ভিন্ন হওয়ায় জেলাজুড়ে বিএনপির পক্ষে জয়ের হাওয়া বইছে।
জামালপুর-১: বিএনপির মিল্লাত এগিয়ে
দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নাজমুল হক সাঈদী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে তার মূল লড়াই হতে পারে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম ফজলুল হক প্রচার চালালেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন না বলে স্থানীয় ভোটারদের অভিমত। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রার্থী মিল্লাতই বিজয়ী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জামালপুর-২: ইসলামপুরে বাবুর শক্ত অবস্থান
ইসলামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-২ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন। এখানে বিএনপির প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবু। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সামিউল হক ফারুকী।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের সুলতান সিরাজি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেছ খান প্রার্থী হলেও প্রতীক জটিলতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে তেমন সক্রিয় নন। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সুলতান মাহমুদ বাবুই এবারও জয়ী হবেন বলে ভোটারদের বিশ্বাস।জামালপুর-৩: আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপির সহজ জয়
মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজর রহমান বাবুল। এ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই মূল লড়াই সীমাবদ্ধ।
১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা আজম টানা আটবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এবার নির্বাচনী মাঠে নেই। ফলে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজর রহমান বাবুলের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জামালপুর-৪: বিএনপির ঘাঁটিতে শামীম নির্ভার
সরিষাবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম।
তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল আওয়ালের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও স্থানীয় ভোটারদের মতে ধানের শীষের প্রার্থী অনেকটাই নির্ভার অবস্থানে রয়েছেন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ইকবাল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের কবির হাসান ও ইসলামী আন্দোলনের আলী আকবর।
জামালপুর-৫: সদর আসনেও বিএনপির এগিয়ে থাকা
জামালপুর সদর উপজেলা ও প্রথম শ্রেণির সদর পৌরসভা নিয়ে গঠিত জামালপুর-৫ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৮ জন। এখানে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ ইউনুছ আহাম্মদসহ মোট আটজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সব দিক বিবেচনায় বিএনপির প্রার্থী ওয়ারেছ আলী মামুনই বিজয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































