উত্তরায় চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা ও লুট, অভিযুক্ত গৃহকর্মীসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৩| আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০৫
অ- অ+

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় গৃহকর্মী সেজে বাসায় ঢুকে বৃদ্ধ দম্পতিকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের ঘটনায় গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সম্পূর্ণ সূত্রহীন এ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী বিলকিস বেগম (৪০) ও চোরাই স্বর্ণের ক্রেতা জুয়েলারি ব্যবসায়ী রবিউল আউয়ালকে (৫৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ের ভাঙ্গা মসজিদ এলাকায় পিবিআই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা এক নারী মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেন। কেয়ারটেকারের কাছে নিজের নাম ‘মমতাজ’ এবং বাসার সদস্যদের কাছে ‘মারুফা’ পরিচয় দিলেও তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র বা ঠিকানা পরে দেবেন বলে জানান।

এর তিন দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বাসার মালিকের স্ত্রী ও সন্তান বেড়াতে গেলে বাড়িতে শুধু বৃদ্ধ দম্পতি আয়শা আক্তার (৬২) ও আনোয়ার হোসেন (৬৮) অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যায় তাদের বড় ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন ফোনে বাবার অসংলগ্ন কথা শুনে বাসায় গিয়ে দেখেন—তার মা বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন এবং বাবা অসুস্থ হয়ে কাতরাচ্ছেন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আয়শা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।

পিবিআই জানায়, পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে দেখেন ঘর এলোমেলো এবং গৃহকর্মী নিখোঁজ। বাসা থেকে প্রায় ১১ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার ও আলমারি থেকে নগদ এক লাখ টাকা চুরি হয়েছে। পাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে ওই নারী বাসায় প্রবেশ করেন এবং দুপুর আড়াইটার দিকে একটি পলিথিন ব্যাগ হাতে বেরিয়ে যান।

তদন্তে জানা যায়, বিলকিস বেগম পানির সঙ্গে ১০টি চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে ওই দম্পতিকে খাইয়েছিলেন। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগের ফলেই আয়শা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লু-লেস। আধুনিক প্রযুক্তি ও পূর্বের মামলার তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে বিলকিসকে শনাক্ত করা হয়। পরে পিবিআইয়ের একাধিক দল ময়মনসিংহ, জামালপুর ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর চৌরাস্তার আউটপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিলকিস বেগম পেশাদার অপরাধী। তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গৃহকর্মী সেজে চেতনানাশক প্রয়োগ করে চুরি করে আসছিলেন। খিলক্ষেত, শেরেবাংলা নগর, ভাটারা ও হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামি রবিউল আউয়াল শেরপুর জেলার বাসিন্দা হলেও গাজীপুরে ব্যবসা করতেন। বিলকিস তার কাছেই চোরাই স্বর্ণ বিক্রি করেছিলেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন। বিলকিসের কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার ৩০০ টাকা ও ওষুধের খালি পাতা উদ্ধার করা হয়েছে।

গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নাম-ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ, ছবি সংরক্ষণ এবং স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে পিবিআই।

(ঢাকাটাইমস/২২ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পুলিশে শূন্য পদে আগে ২৮-২৯তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের পদায়ন জরুরি
আজ কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ৬ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
মিরপুর বিভাগে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার ১১৯
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা