সাতক্ষীরায় আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে বাগান, বাম্পার ফলনের আশায় চাষিরা

মাঘের বিদায় আর ফাল্গুনের শুরুতে সাতক্ষীরার প্রকৃতি সেজেছে আমের মুকুলের সোনালি আভায়। আবহাওয়াগত বিশেষত্বের কারণে প্রতি বছরই দেশের অন্য সব জেলার আগে সাতক্ষীরায় আম পাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জেলার সাতটি উপজেলার গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে শহরের আঙিনা, সবখানেই এখন আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় মোট ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। জাতভিত্তিক চাষের মধ্যে রয়েছে—হিমসাগর ৮৯৯ হেক্টর, আম্রপালি ৫৬৪ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৩৮২ হেক্টর, গোপালভোগ ২১৯ হেক্টর, লতা ১৪৩ হেক্টর, মল্লিকা ৮০ হেক্টর, বোম্বাই ৫০ হেক্টর এবং অন্যান্য স্থানীয় জাত ২৪৩ হেক্টর।
উপজেলাভিত্তিক হিসেবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১,২৫০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৮৩৯, তালায় ৭১৫, কলারোয়ায় ৬৫৮, দেবহাটায় ৩৭০, শ্যামনগরে ১৬০ এবং আশাশুনিতে ১৪৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ রয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় মোট ৭০ হাজার ৮৮০ টন আম উৎপাদন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
বর্তমানে জেলায় ৫ হাজার ২৯৯টি আমবাগান রয়েছে এবং আমচাষির সংখ্যা ৫০ হাজার ৭৪৫ জন। এর মধ্যে নিবন্ধিত চাষি ৩৫১ জন। মুকুল আসার পর থেকেই বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। রোগবালাই প্রতিরোধে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক প্রয়োগ ও নিয়মিত মনিটরিং চলছে।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আমচাষি মনিরুল ইসলাম জানান, এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। আমরা নিয়মিত পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। দাম ভালো পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। আমরা ৭০ হাজার ৯০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ জেলা থেকে ১৮০ টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছিল। ২০২৩-২৪ সালে রপ্তানি হয় ৬০ টন এবং ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৭২ টন। চলতি মৌসুমে অন্তত ১০০ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
(ঢাকা টাইমস/২৪ফেব্রুয়ারি/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































