পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ইউজিসির জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার ইউজিসির চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৭৮তম পূর্ণ কমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদন করা হয়।
অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট বরাদ্দের মধ্যে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয় এবং ৪৩টি প্রকল্পের জন্য ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে রাখা হয়েছে।
ইউজিসি জানিয়েছে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
২০২৬–২৭ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
গবেষণা ও স্কলারশিপে বাড়তি গুরুত্ব
উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে আগামী অর্থবছরে মোট ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২২৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে গবেষণা ও স্কলারশিপ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৯ কোটি টাকা।
ইউজিসির জন্য বরাদ্দকৃত মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশই গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে রাখা হয়েছে।
ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, গবেষণা খাতে দ্বৈততা দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা তহবিল ও ইউজিসির গবেষণা খাত একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা ইউজিসির বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইউজিসির গবেষণা খাতে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বৈদেশিক স্কলারশিপের জন্য ১২ কোটি টাকা যোগ হয়ে মোট বরাদ্দ হয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।
গবেষণা তহবিল ব্যবহারে নীতিমালা আসছে
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে শিগগিরই একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, যার মাধ্যমে গবেষণা খাতের বরাদ্দ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, গবেষণার অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং গবেষণার সম্ভাব্য প্রভাব, গুণগত মান ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ড. মামুন আহমেদ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদার তুলনায় বর্তমান বরাদ্দ অপ্রতুল। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে অর্থ ব্যয় করা গেলে দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। গুণগত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই ইউজিসির প্রধান লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































