দীর্ঘ অপেক্ষার পর লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৪০ বাংলাদেশি

লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত ও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী আরও ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার তত্ত্বাবধানে এবং দেশটির জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকারের সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় তাদের দেশে ফেরানো হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ফ্লাই ওইয়া এয়ারলাইন্সের YI5040 ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট লিবিয়া সরকারের ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে ত্রিপোলির সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমন্বয় করা হয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণ ও সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাদের অভিজ্ঞতা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং বিদায় জানান।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা প্রতিকূলতার পর দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়ায় অনেক প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও নিবিড় সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
মানবিক কারণে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে লিবিয়া সরকারের অগ্রাধিকারকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সমাজের নেতিবাচক মন্তব্য বা অবজ্ঞাকে উপেক্ষা করে পরিবারের সহযোগিতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে দেশে ফেরা নাগরিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে যাতে আর কোনো বাংলাদেশি একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার না হন, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে মানবপাচার ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
প্রত্যাবাসন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ত্রিপোলির মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে দেশে ফেরা নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেন। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম), প্রথম সচিব (শ্রম)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়বেলায় রাষ্ট্রদূত লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস ও লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টা এবং আন্তরিক সমন্বয়ের ফলেই এই মানবিক প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ভবিষ্যতেও বিপদগ্রস্ত ও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে লিবিয়া সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
(ঢাকাটাইমস/০৮ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































