দিনাজপুরে সরকারি গোডাউন থেকে ৩২৭ মেট্রিক টন সার গায়ের, আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর
  প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২১:২০
অ- অ+

দিনাজপুরে বিএডিসির সরকারি সার গোডাউন থেকে ৩২৭ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন সার গায়ের হয়ে গেছে। এ অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার নেপথ্যে নায়কেরা রয়েছে এখনো ধোরাছোয়ার বাইরে। কর্তৃপক্ষ বললে অনুমোদন ছাড়াই ওই সার বিক্রি করা হয়েছে দুজন ডিলারের কাছে। এ অভিযোগে সোমবার রাতে মো. আকতারুল ইসলাম নামে এক স্টোরকিপারকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রায় ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের ৩২৭.৪৫ টন সার বিক্রির টাকা কার কাছে আছে তা জানাতে অপারগ কর্তৃপক্ষ। শস্যের মধ্যে ভুল থাকলে সেই ভুত তাড়াবে কে? এনিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সঠিকভাবে তদন্ত হলে বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা ফেসে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

দিনাজপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সরকারি গুদাম থেকে এই সার গায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় গুদামের দায়িত্বে থাকা স্টোরকিপার মো. আকতারুল ইসলামকে সোমবার রাতে আটক করেছে পুলিশ। দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর এলাকায় বিএডিসির সরকারি সারগুদামে অভিযান চালিয়ে আকতারুলকে আটক করা হয়। আকতারুল দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আরাজি জুগিরগোপা গ্রামের আফসার আলীর ছেলে। তিনি ওই গুদামের স্টোরকিপার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

আটক আকতারুল ইসলামের বরাত দিয়ে কোতোয়ালি থানা–পুলিশ জানায়, সরকারি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সার অনুমোদন ছাড়াই বিক্রির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে খবর আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় নশিপুর বিএডিসি সরকারি সারগুদামে অভিযান চালায়। অভিযানে আকতারুলকে আটক করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকতারুল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গত জুলাই ও আগস্ট মাসের বিভিন্ন সময়ে গুদাম থেকে ওই ৩২৭ টন সার বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই জুলাই থেকে আগস্ট মাসের বিভিন্ন সময়ে বীরগঞ্জ উপজেলার সার ও বীজ ডিলার সোহাগ হোসেন (৩৮) ও কাহারোল উপজেলার বীজ ও সার ডিলার আনসারুল ইসলাম (৪২) নামের দুই ব্যক্তির কাছে ওই সার বিক্রি করেন। তারা উভয়ে বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ ডিলার।

বিএডিসি-দিনাজপুর অঞ্চলের যুগ্ম-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুরে কাঞ্চন ও স্টিল নামের দুটি গুদাম রয়েছে। দুটি গুদামের ধারণক্ষমতা প্রায় ১৮ হাজার টন। এতে এমওপি, ড্যাব ও টিএসপি সার মজুত রয়েছে। আমরা জেনেছি, সেই গুদাম থেকে অনুমোদন ছাড়াই সার বিক্রি করা হয়েছে। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্ট স্টোরকিপারকে আটক করা হয়েছে। আমর তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবো।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নূরনবী জানান, এ ঘটনায় একজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সরকারি সার অবৈধভাবে বিক্রির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্ত শেষে তা জানা যাবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক ডিলার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, এটা নতুন কোন বিষয় নয়, অনেক আগে থেকেই এমন অপরাধ হয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে গুদান থেকে সার ও বীজ আগে-ভাগেই বিক্রি করে দেওয়া হয় কতিপয় ডিলারদের কাছে। এরমধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলার সোহাগ হোসেন এবং কাহারোল উপজেলার আনসারুল অন্যতম। তারা দুজন কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে চোরাই ব্যবসার মাধ্যমে এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ থেকে বটগাছে রূপান্তর হয়েছে। এই অবৈধ ব্যবসার জন্য তারা বিএডিসির কতিপয় কর্মকর্তাদের অবৈধ অর্থের পাশাপাশি সুন্দরী নারীসহ অনেক কিছুই সাপ্লাই দিয়ে থাকে।

শুধু নশিপুর নয়,বিরাপুর,পার্বতীপুর এবং পুলহাটে অবস্থিত বিএডিসির গুদামেও মজুদের অনেকাংশ সার কম রয়েছে। শুধু তাই,এই চক্রটি গুদামে রক্ষিত সারের প্রতিবস্তা থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে ৫০০ গ্রাম থেকে শুরু করে দুই/ আড়াই কেজি সার বের করে নেয়। বের করে নেওয়ার পর ডিলারদের মাধ্যমে সারের বস্তা কৃষকের সরবরাহ করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবস্তায় কৃষক দেড় থেকে দুই কেজি সার কম পাচ্ছেন এমন অভিযোগ বেশ কয়েকবার উপস্থাপিত হয়েছে। মিডিয়ার সংবাদ এসেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নীরবতার ভূমিকা পালন করছেন।

(ঢাকা টাইমস/২৫আগস্ট/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আরএমপি কমিশনারকে সরানো হয়নি, ১২ আগস্ট বদলি হন তিনি
৭ দিনের মধ্যে বিদেশ পাঠানো দালালদের তালিকা চাইলেন মন্ত্রী
ভারত সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং
হবিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা