হবিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ
  প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৭
অ- অ+

হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্নহয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরের চাঁদের হাসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি রাজনগর এলাকার মৃত সুন্দর আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় হবিগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ ময়দানে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহরের রাজনগর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন এমপি, জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ, পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, ফজলুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুকে ঘিরে চাঁদের হাসি হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকার ওই হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়লে খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ, জেলা প্রশাসক ড. সরফরাজ, সিভিল সার্জন ডাক্তার রত্নদ্বীপ বিশ্বাস, তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকার প্রমুখ হাসপাতালে ছুটে যান।

স্বজনদের অভিযোগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক বুকে ব্যথা অনুভব করলে সদর হাসপাতাল চিকিৎসা শেষে সুস্থ অবস্থায় পায়ে হেঁটে চাঁদের হাসি হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসক ডা. সুলেমান মিয়াকে দেখান এবং পর্যবেক্ষণে থাকেন। এ সময় তার ইন্টার্নি আল আমিন একটি ইনজেকশন দিতে গেলে তিনি আপত্তি জানান বলে স্বজনরা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, তিনি ওই ইনজেকশন দিলে তার অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে পারে বলে জানান এবং অন্য একটি ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু আল আমিন তার কথায় কর্ণপাত না করে ডা. সুলেমানের দেওয়া ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই গোলাম মোস্তফা রফিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বলে স্বজনদের অভিযোগ।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় হাসপাতালের ডা. সুলেমান মিয়াসহ অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা হাসপাতাল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে হাসপাতালটি অনেকটা স্টাফবিহীন হয়ে পড়ে। আতঙ্কে কয়েকজন রোগীও হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরও চালু করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সদর থানার ওসি জাহিদুল হকের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্য হাসপাতালের চারপাশে অবস্থান নেন। পরে রাত ১০টার দিকে হুইপ জি কে গউছসহ অন্যান্য নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মরদেহ তার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিভিল সার্জনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে ৪ দিনের মধ্যে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসকদের কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করবে।

এদিকে উত্তেজিত জনতা অভিযোগ করেন, এর আগেও চাঁদের হাসি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি বলেও তারা অভিযোগ করেন।

(ঢাকা টাইমস/২৫আগস্ট/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ভারত সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং
দিনাজপুরে সরকারি গোডাউন থেকে ৩২৭ মেট্রিক টন সার গায়ের, আটক ১
প্রতারণা মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা এরশাদ গ্রেপ্তার
যশোরে ৪৪ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা