নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩৮
অ- অ+

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে (৫০) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান।

এরআগে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার কারণে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়ায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীকে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন অন্য ব্যক্তিদের দিয়েও তাকে ধর্ষণ করানো হয়। একপর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে আবারও একই কাজে রাজি না হওয়ায় তার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর স্কুলছাত্রী বিষয়টি পরিবারকে জানায়।

পরে গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় বিএনপি নেতা বকুলকে প্রধান করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ওই রাতেই মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে মামলা হওয়ার পর থেকে প্রধান আসামি বিএনপি নেতা বকুল পলাতক রয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বকুল ওই ছাত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। তখন ওই ছাত্রী ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরবর্তীকালে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে কয়েকজন ব্যক্তি সহযোগিতা করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে। পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য ওই ছাত্রীকে হুমকি দেওয়া হতো।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার এক নারী সহযোগী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে তাকে ধর্ষণ করানো হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে তাকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে ধর্ষণ করানো হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, ১ আগস্ট ওই ছাত্রী চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের কাছে বেড়াতে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানায়।

গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শারীরিক পরীক্ষা করানো হলে ওই ছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ২৫ আগস্ট সে বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বিস্তারিত জানার পর ২৬ আগস্ট কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বলেন, আমাকে ভয় দেখিয়ে আমার খালু বকুল মিয়া ও আবু মিয়া বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য মানুষের দ্বারাও ধর্ষণ করাইছে। আমি যে বলে দিয়েছি, এই জন্য আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এসবের কঠিন বিচার চাই।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় অভিযুক্ত মো. আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বিকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

(ঢাকা টাইমস/২৭আগস্ট/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
নওগাঁয় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেকে কী মনে করেন? তার ছাত্র হতে সংসদে আসিনি’
দলে জায়গা পেলেন শেবাগ ও দ্রাবিড়ের ছেলে
পিংক বাসের চালক নিচ্ছে বিআরটিসি, লাগবে যে যোগ্যতা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা