সাতক্ষীরায় আ.লীগ নেতা রাজ্যেশ্বরের জামিন নামঞ্জুর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪১
অ- অ+

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক রাজ্যেশ্বর দাশের (৬৫) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করা হলে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের জামিনের বিরোধিতার আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যেশ্বর দাশ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অর্থের জোগানদাতা। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ ভারতে পাচার, সেখানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ রয়েছে। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন, এমন আশঙ্কার কথাও আদালতকে জানানো হয়েছে।

আদালত সূত্রে মামলার নথি অনুযায়ী, আশাশুনি থানার মামলা নম্বর ২৪, তারিখ ২৩ জুন ২০২৬। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় করা হয়েছে। মামলায় রাজ্যেশ্বর দাশকে এজাহারনামীয় ৪১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে আশাশুনি থানা-পুলিশ। পরে তাকে আশাশুনির আমলি আদালত-৮-এ হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি নয় দিন হাজতে ছিলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং সেখানে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ভাঙচুরের সঙ্গে রাজ্যেশ্বর দাশ জড়িত। এছাড়া রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠনের চেষ্টা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুস সাত্তার বলেন, আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অর্থের জোগানদাতা। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈত নাগরিক বিষয়টি আদালতকে অবগত করা হয়েছে। এসব কারণে জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, রাজ্যেশ্বর দাশের বিরুদ্ধে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আশাশুনি উপজেলার সরাফপুর গ্রামের মৃত কার্তিক চন্দ্র দাশের দুই স্ত্রীর ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে তিনি সরকারি নথিপত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেন।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, কার্তিক চন্দ্র দাশের মৃত্যুর পর ১৯৯৭ সালে দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের নাম গোপন করে একটি ‘ওয়ারেশ কায়েম সার্টিফিকেট’ নেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে তৎকালীন শোভনালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম ওই সনদ বাতিল করে দুই স্ত্রীর ছয় সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন ওয়ারিশ সনদ দেন।

এর প্রায় ২৬ বছর পর ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর শোভনালী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একই ধরনের আরেকটি ওয়ারিশ সনদ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই সন্তান রাজকুমার দাশ ও দীপ্ত কুমার দাশের নাম বাদ দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্যের সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করে ওই সনদ তৈরি করা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে রাজ্যেশ্বর দাশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ ভারতে পাচার করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বাড়ি, জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

রাজ্যেশ্বর দাশের সৎভাই রাজকুমার দাশ বলেন, রাজ্যেশ্বর দাশ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ ভারতে নিয়ে গেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে জমি, বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বসিরহাটে প্রায় ১৪ কাঠা জমির ওপর দুটি বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, বাড়ি, ইটভাটাসহ বিভিন্ন সম্পদের মালিকানার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এসব সম্পদ কীভাবে এবং কোন অর্থে অর্জন করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, বাংলাদেশ ও ভারতে রাজ্যেশ্বর দাশের নামে থাকা সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হোক। ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তি কেনার অর্থের উৎস এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য যাচাই করা হোক। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকত্ব কীভাবে পেয়েছেন, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত।

রাজকুমার দাশ বলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়েও তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে আমাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। তাই তার সম্পদের উৎস ও ভারতে থাকা সম্পত্তির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারতে যাওয়ার সময় বিজিবির ৩৩ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা রাজ্যেশ্বর দাশকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের জাল টাকার মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকার কথা তখন জানা যায়। পরে জামিনে মুক্ত হলেও আশাশুনি থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। সর্বশেষ ২৫ আগস্ট সরাফপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মিজানুর রহমান পিন্টু। তবে তিনি তার মক্কেলকে নিয়ে গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতার পর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

(ঢাকা টাইমস/৩সেপ্টেম্বর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বগুড়ায় শজিমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
পুলিশকে দুষ্ট দমনে কঠোর, শিষ্টের পালনে মানবিক হওয়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৮ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
রূপগঞ্জে সহযোগীসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী কালাই সবুজ গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা