কমলনগরের ফলকন উচ্চবিদ্যালয়
সেশন ফি ছাড়া মিলছে না বিনামূল্যের বই

বছরের প্রথম দিনটি ছিল দেশজুড়ে বই উৎসব। প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই উঠেছে এদিন। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ফলকন উচ্চবিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যের বই বিতরণের সময় সেশন ফি আদায় করা হচ্ছে। তা না দিলে মিলছে না বিনামূল্যের বই।
জানা গেছে, সেশন ফির নামে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী প্রতি ৬৮০ টাকা করে আদায় করছেন। যারা এই টাকা পরিশোধ করেছে, তাদের ভাগ্যেই জুটেছে বিনামূল্যের পাঠ্যবই। আর যেসব শিক্ষার্থী টাকা দিতে পারেনি, ‘বই উৎসবের’ দিন তাদের হাতে ওঠেনি বিনামূল্যের বই।
বই উৎসবের দিন রোববার সরেজমিনে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এসব তথ্য। এ নিয়ে বিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিনা মূল্যের বই দেয়ার জন্য সেশন ফির কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৬৮০ টাকা করে আদায় করছে। যারা এ টাকা দিতে পারেনি তাদের খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নোমান জানায়, এবারের জেএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। নদীভাঙনজনিত পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে ২০০ টাকা নিয়ে নতুন ক্লাসের বইয়ের জন্য বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছে যায়। কিন্তু ওই শিক্ষক তার কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে আরও ৪৮০ টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত বই দেওয়া যাবে না বলে জানায়।
বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নুর আলম, রাজিব, শিমুল ও সাব্বির জানায়, বই পাওয়ার জন্য তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে জমা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম খলিল, সহকারী শিক্ষক আবদুস সামাদ ও অফিস সহকারী মো. সামছুদ্দিন বই বিতরণের জন্য ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ আদায় করছেন। বিনামূল্যের বই বিতরণে অর্থ আদায়ের বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘বইয়ের মূল্য নয়, সেশন ফি বাবদ ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়া হচ্ছে।’
কিন্তু কোনো কারণ দেখিয়ে বই বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে টাকা নেওয়া যাবে না- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনার কথা জানালে তারা কোনো জবাব দেননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বই বিতরণের জন্য ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে সেশন ফির নামে ৫০০ থেকে ৬৮০ টাকা করে আদায়ের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘বই বিতরণের সময় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে স্কুলের পাওনা অর্থ নিয়ে থাকে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্যাহ চৌধুরী জানান, ফলকন উচ্চবিদ্যালয়ে বই বিতরণকালে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।(ঢাকাটাইমস/১জানুয়ারি/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































