কী নেই পাটপণ্যের!

রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে তিন দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্যের মেলা শুরু হয়েছে। পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)’ এ মেলার আয়োজন করেছে। মেলায় পাটপণ্যের ৬১টি স্টল বসেছে, যেখানে ৯৫ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পাট দিবস উপলক্ষে পাটজাত পণ্য মেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী।
মেলা ঘুরে দেখা যায় প্রথম দিনই মেলা জমে উঠেছে। ক্রেতারা বলছে পাট দিয়ে যে এত সুন্দর পণ্য তৈরি হতে পারে এখানে না এলে সেটা জানাই হতো না। একজন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘কী নেই পাটপণ্যের! আমি তো দেখি সবই এই পাট দিয়ে হয়।’
মিরপুর থেকে মেলায় এসেছেন গৃহিনী বিথী আক্তার। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমি মেলা থেকে ব্যাগ কিনেছি। আমার কাছে সস্তাই মনে হয়েছে। ব্যাগগুলো প্রতিটির দাম নিয়েছে ৩০০ টাকা।’
মেলা ঘুরে দেখা গেছে বেড কভার, কুশন কভার, সোফা কভার, কম্বল, পর্দা, টেবিল রানার, টেবিল ম্যাট, কার্পেট, ডোরম্যাট, শতরঞ্জি, পরিধেয় বস্ত্র যেমন ব্লেজার, ফতুয়া কটি, শাড়িসহ সো-পিস, গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারযোগ্য বহুবিধ পাটপণ্য সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রয় করছে বিভিন্ন স্টলে।
এছাড়া থাকছে ফাইল কভার, বিভিন্ন প্রকার ব্যাগ যেমন, সেমিনার, ল্যাপটপ, স্কুল, লেডিস পার্স, ওয়াটার ক্যারি, মোবাইল, পাসপোর্ট, ভ্যানিটি, শপিং, গ্রোসারি, সোল্ডার, ট্রাভেল, সুটকেস, ব্রিফকেস, হ্যান্ড ও মানিব্যাগ, পাটের সুতা।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এ মেলা চলবে। মেলায় ঢুকতে কোনো টিকিটের প্রয়োজন নেই।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নাসিমা বেগম বলেন, মেলায় ঢুকতে কোনো টাকা আমরা নিচ্ছি না। আমরা সবাইকে জানাতে চাই আমরা পাট দিয়ে কী পণ্য তৈরি করছি। আমরা যত বেশি পাটপণ্য ব্যবহার করবো তত বেশি এ সেক্টরের অগ্রগতি হবে। পাটের ব্যবহার বাড়লে কিন্তু আমাদের অনেক বেশি উপকার। এ হলো আমরা দেশীয় পণ্য। এর ফলে যে কৃষক পাট উৎপাদন করছে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে। পাট চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্ব এখন পলিথিনের বিকল্প খুঁজছে। পাট পলিথিনের বিকল্প হিসেবে যেন ভুমিকা রাখতে পারে সেই চেষ্টা আমরা করছি।’
মেলায় কথা হয় জারমাটজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাত জেরিন খানের সঙ্গে। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘মেলার প্রথম দিনই ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমার স্টলে পাট দিয়ে তৈরি কুশন কভার, টেবিল রানার, ফ্লোর কাভার, ওয়াটার ব্যাগ, কম্বো ব্যাগ, করপোরেট ফাইল, লন্ডি বাস্কেট, বাস্কেট, ছিকাসহ বিভিন্ন পাটজাত পণ্য রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গিফট অর্ডার নেয়া হয়।’ তিনি জানান, দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই মেলা। এতে জনগণ পাটপণ্যের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।
(ঢাকাটাইমস/০৯মার্চ/জেআর/জেবি)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































