‘বিএনপি এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী’

মহিউদ্দিন মাহী
| আপডেট : ১৬ জুন ২০১৭, ২০:৩৮ | প্রকাশিত : ১৬ জুন ২০১৭, ১৫:০১

ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে আগমন তার। পরে পালন করেছেন ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তিনি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ঢাকাটাইমসের সঙ্গে কথা হয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি দুলাল হোসেনের সঙ্গে। তার ভাষ্য, সহায়ক সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন না দিলে গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি করা হবে। বিএনপি এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। সাক্ষাৎকারে ছিলেন মহিউদ্দিন মাহী

রাজনীতি কেমন চলছে?

রাজনীতি বলতে যেটা বুঝায় সেটা তো আওয়ালমী লীগ বহু আগেই নির্বাসনে পাঠিয়েছে। গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। বিরোধী দলের রাজনীতি করার সুযোগকে একেবারে সীমিত করা হয়েছে। চারিদিকে শুধু হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন, জেল, জুলুম। দেখুন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন সিনিয়র সিটিজেন যিনি কি না এদেশের তিন তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আদালতে দাঁড় করিয়ে রেখে বিচারের নামে প্রহসন চলছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। ভোট ছাড়াই তারা গায়ের জোরে এবং প্রভুদের জোরে অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় বসে আছে। অর্থনৈতিকভাবে দেশকে পঙ্গু করে দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো লুটপাট করে কয়েক লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সেন্ট্রাল ব্যাংকের রিজার্ভ ও তারা খেয়ে ফেলেছে। বিদ্যুত রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে দেশে কুইক লুটপাট চলছে। দশ টাকা সের চাল খাওয়ানোর কথা বলে জনগণকে ধোকা দিয়েছে তারা। এখন চালের কেজি ৬০ টাকা। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধগতি। সর্বত্রই শুধু নৈরাজ্য আর নৈরাজ্য। এই রাজনীতি তো দেখেনি কেউ কোনোদিন। তবে এসবের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলমান।

সেটা কেমন?

সরকার আমাদের যেকোনো কর্মসূচিতেই গুলি চালায়, হত্যা করে। এ ধরনের অসভ্যতা তো আইয়ুব-ইয়াহিয়ার আমলেও ছিল না। তাদের এই অসভ্যতার কাছে হিটলার-মুসলিনিও তো ফেল। তারপরেও এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমরা ভিন্ন কৌশলে সরকারের বাকশালী নীতির বিরুদ্ধে জনমত তৈরির কাজ করে যাচ্ছি।

আন্দোলনের কর্মসূচি কী দিচ্ছেন?

দেখুন আমরা তো আসলে কর্মসূচির মধ্যেই আছি। বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল যার কি না দীর্ঘ সংগ্রামের ঐতিহ্য রয়েছে। সেই দল কখনো কর্মসূচিহীন থাকতে পারে না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় কখনো কখনো কৌশল পরিবর্তন হতে পারে। আমাদের দল এই মূহুর্তে সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে জেলা পর্যায়ে দল পুনর্গঠনের কাজ চলছে। অধিকাংশ সাংগঠনিক জেলারই পুনর্গঠন প্রায় শেষ পর্যায়ে। সম্প্রতি ৫১টি সাংগঠনিক টিম গঠন করে তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের একটি সেতুবন্ধন তৈরির কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। সুতরাং আমাদের কর্মসূচি চলমান।

সামনে নির্বাচন আসছে। নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

দেশে এখন কিছুটা হলেও নির্বাচনের হাওয়া বইছে। নির্বাচন অবশ্যই যথাসময়ে একটি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনেই হবে। এছাড়া অন্য কোনো পন্থা এদেশের জনগণ মানবে না। একটি ইনক্লিউসিভ ইলেকশনের জন্য অবশ্যই একটি নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে। নাম তার যাই হোক। কারণ বিড়ালের কাছে তো শুটকি পাহারা দিতে দেয়া যায় না। তাই না? আমি মনে করি সরকারের সামনে দুটো পথ খোলা আছে। হয় সমঝোতা না হয় তাদেরকে একটি গণঅভ্যুত্থানের মুখোমুখি হতে হবে। সমঝোতার পথে না এসে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যদি তাদের পতন হয় তাহলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এমনকি রাজনৈতিকভাবে তারা বিলীনও হয়ে যেতে পারে। জানিনা তারা কোন পথ বেছে নেবে।

নির্বাচনে আপনাদের দলের জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

শতভাগ। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে দেশের জনগণের মধ্যে এক অভাবনীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশনেত্রী যেখানেই যান সেখানেই জনগণের ঢল নামে। আগামী নির্বাচনে জনগণ যদি ভোট দেয়ার সুযোগ পায় তাহলে ৭৫ শতাংশের বেশী আসনে বিএনপি জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।

সহায়ক সরকারের দাবি কি আওয়ামী লীগ মানবে?

মানবে। মানতে বাধ্য করা হবে।

আপনারা কি দাবি আদায়ে সক্ষম?

অবশ্যই সক্ষম। পুলিশি শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ একদিন বিজয়ী হবেই। বিএনপি আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আমাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা অনেক বেশি। সেইসঙ্গে জনগণের সমর্থন। এই দুয়ের সমন্বয়ে আমরা অবশ্যই সক্ষম।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তো পারেননি

ওই সময়ের পেক্ষাপট ভিন্ন। তখন আমরা মূলতঃ একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কাছে হেরে গেছি। এবার তেমন সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। এবার কোনো অপকৌশলকেই আমরা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেব না।

সরকার তো তাদের অবস্থানে অনড়

আন্দোলনের তীব্রতায় সরকার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে।

সেই প্রস্তুতি কি আপনাদের আছে?

অবশ্যই আমাদের আছে। সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। আমাদের মহাসচিব বলেছেন, ৩০০ আসনে ৯০০ প্রার্থী তৈরি। সুতরাং আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই।

দাবি না মানলে কি এবার বিএনপি নির্বাচনে যাবে।

দাবিও মানবে। বিএনপিও নির্বাচনে যাবে। আপনাকে বুঝতে হবে এদেশের জনগণের হারানো ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন শুধু বিএনপির একার নয়। দেশের ১৬ কোটি মানুষের। এই আন্দোলনে বিএনপি কিংবা খালেদা জিয়া ব্যর্থ কিংবা পরাজিত হতে পারেন না। কারণ খালেদা জিয়া পরাজিত হলে গণতন্ত্র পরাজিত হবে। খালেদা জিয়া পরাজিত হলে দেশের স্বাধীনতা পরাজিত হবে। খালেদা জিয়া পরাজিত হলে সর্বোপরি বাংলাদেশ পরাজিত হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবার বাংলাদেশই বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।

সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ

(ঢাকাটাইমস/১৫জুন/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত