দিল্লিতে স্বামী নারায়ণ অক্ষরধাম

হাসান মাসুম, দিল্লি থেকে
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৪০

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লী মুঘল স্থাপত্যের জন্য তো বটেই, এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ের জন্যও খ্যত। এখানে মুঘল আমলে করা জামে মসজিদ ছাড়াও যেমন রয়েছে অসংখ্য মসজিদ তেমনি রয়েছে শিখ ধর্মের গুরুদুয়ারা, হিন্ধু ধর্মের মন্দির, বাহাই ধর্মের লোটাস টেম্পল, খ্রিস্টান ধর্মের উপাসনালয় গির্জা এবং বৌদ্ধ প্যগোডা।

ভারতীয় শিল্প, মূল্যবোধ ও মানবসেবা ব্রতী করে এমনই একটি নিদর্শন স্বামী নারায়ণ অক্ষরধাম, ১০০ একর বিস্তৃত এই বিশাল উপাসনালয়টি সাত হাজার শ্রমিকের পাঁচ বছর পরিশ্রমের ফলে বর্তমান নয়নাভিরাম রূপ লাভ করেছে। মন্দিরে ঢুকতে হলে কঠোর নিরাপত্তা বেস্টনী পার হতে হয়, মোবাইল ফোন জমা দিয়ে ভেতরে ঢুকতে হবে, ভেতরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ। ভেতরে ঢুকে চোখে পড়বে দশদ্বার যা দশটি প্রবেশদ্বারের স্মারক হয়ে জানাচ্ছে মঙ্গলবারতা।

এরপর নজরে আসবে অক্ষরধাম মন্দির যা গোলাপি পাথর ও শ্বেতমর্মরে নির্মিত। ১৪১ ফুট উচু, ৩১৬ ফুট পার্শ্ব এবং ৩৫৬ ফুট দীর্ঘ এই মন্দিরে সূক্ষ কারুকার্য খচিত ২৩৪টি স্তম্ভ, ৯টি জমকালো গম্বুজ, ২০টি চূড়া এবং ২০ হাজার এর অধিক ভাস্করয রয়েছে। এই স্থাপত্যে কোন ইস্পাত ব্যবভার করা হয়নি বলে জানা গেল।

মন্দিরের কেন্দ্রস্থলে স্বামী নারায়ণের ১১ ফুট উঁচু স্বর্ণ প্রলেপযুক্ত প্রশান্ত মূর্তি রয়েছে। তার দু’পাশে রয়েছে রাধাকৃষ্ণ, রামসীতা, লক্ষী নারায়ণ এবং পার্বতী শিব এর মূর্তি। এখানে সর্বধর্মের পর্যটক পরিদর্শনে আসতে পারেন। তিনটি হলঘর পরিদর্শন করলে অক্ষরধাম সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। হলঘর-১ এর নাম মূল্যবোধ কক্ষ-অহিংসা, সাহস, উদ্যোগ, সততা, বিশ্বাস এই মুল্যবোধগুলো রবোটিক্স শো এর মাধ্যমে সংলাপসহ প্রদর্শন করা হয় প্রতি ৪০ মিনিট অন্তর। হলঘর-২ এর নাম থিয়েটার যেখানে ৮৫ফুট বাই ৬৫ ফুট বিশাল পর্দায় যোগী নীলকন্ঠের জীবনের ইতিহাস চলচিত্রায়ণ করা হয়। হলঘর-৩ এ নৌ-বিহার, এখানে একটি প্রামাণ্য নদীতে কাঠের ময়ুরকণ্ঠী নাও ভাসিয়ে নিয়ে যায় হাজার বছরের পুরানো তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় যা গড়ে উঠেছিল সরস্বতী নদীর দুই তীরে দশ হাজার বছর বছর আগে, দকেহ্নো হয়েছে বৈদিক গ্রামসংস্কৃতি, ভারতীয় প্রাচীন পদারথবিদ, রসায়নবিদ, গণিতবি্‌দ, বৈয়াকরণ, ভারত য় শৈল্য চিকিৎসক শুস্রূস, প্রাচীন নিরবাচন কারযক্রম, নৃত্যকলা ভরতনাট্যম, প্রাচীন কবিদের ইতিহাস, রামায়ন লেখন ব্যাসবেদ, প্রাচীন সমরাস্ত্র এর ধারণা ইত্যাদি।

ভেতরে জলপান এবং অন্যান্য সুবিধা লক্ষণীয়। প্রেমবতী ভোজনালয় থেকে খাবার ক্রয় করার সুবিধা রয়েছে। সন্ধ্যায় অবলোকন করা যায় বিশেষ “ও্যাটার শো লেজার লাইটিং “। একটি পর্যটন দিবস অন্যাসে কেটে যাবে অক্ষরধাম দর্শন এ ।

(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/লেসথো প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত