মিঠা পানির জেলিফিশের অসাধারণ জীবনীশক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ১০:০৮

সমুদ্রে স্নান করার সময়ে শরীরে জেলিফিশের ছোঁয়া পেলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ হ্রদের মিঠা পানির মধ্যেও কিন্তু এই প্রজাতির দেখা পাওয়া যায়৷ বিজ্ঞানীরা তাদের অসাধারণ জীবনীশক্তির রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করছেন৷

জার্মানির দক্ষিণে ছোট একটি হ্রদে মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী কাটরিন শাখটেল ও তার এক সহকর্মী  মিঠা পানির জেলিফিশের খোঁজ চালাচ্ছেন৷ কাটরিন বলেন, ‘আমরা জেলিফিশের প্রাকৃতিক পরিবেশ আরো নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করার চেষ্টা করছি৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পরীক্ষা চালাতে চাই৷ সেই লক্ষ্যে আমরা জেলিফিশ সংগ্রহ করছি৷’ খবর ডয়চে ভেলের।

কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই গবেষক বাভেরিয়ার হ্রদ ও পুকুরগুলিতে জেলিফিশের বড় ঝাঁকের আবির্ভাবের জন্য অপেক্ষা করছেন৷ কিন্তু তারা কি সাফল্য পাবেন?

১৮৮০ সালে প্রথম মিঠা পানির জেলিফিশ আবিষ্কৃত হয়৷ লন্ডনে এক শালুক ফুলের জলাধারে তাদের দেখা পাওয়া গিয়েছিল৷ সম্ভবত চীন থেকে সেগুলি ইউরোপের ভুখণ্ডে পৌঁছেছিল৷ তারপর কোনোভাবে জার্মানির জলাশয়েও তাদের আবির্ভাব ঘটে৷

তাদের শরীরের বিষ মানুষের জন্য বিপজ্জনক নয়৷ তাদের শুঁড়ের রোঁয়া মানুষের ত্বক ভেদ করতে পারে না৷ ফলে স্নানের সময় তাদের সংস্পর্শে এলে ভয়ের কোনো কারণ নেই৷ তবে অনেকেই এমন থলথলে প্রাণীকে ঘৃণা করেন৷ ভালো করে খুঁটিয়ে দেখলে অবশ্য তাদের দেখে মুগ্ধ হতে হয়৷ কাটরিন এর জেলিফিশ ধরার পদ্ধতি সহজ এবং বেশ কার্যকর৷ তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা ১০টি জেলিফিশ সংগ্রহ করেছি৷ বড় ঝাঁকের আবির্ভাবের ফলে তাদের খোঁজ পাওয়া সহজ হয়েছে৷ তাছাড়া এগুলি পূর্ণবয়স্ক, আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই৷ ফলে আরো বেশি বংশবৃদ্ধি ঘটবে না৷’

মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকোয়াটিক ইকোলজি বিভাগে এই জেলিফিশগুলি পরীক্ষা করা হবে৷ তাদের জিনগত গঠনের পাশাপাশি হ্রদের খাদ্য শৃঙ্খলে তাদের অস্তিত্বের প্রভাবও খতিয়ে দেখা হবে৷ বিভাগীয় প্রধান হেয়ারভিশ স্টিবর এই উদ্যোগ নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহী৷ তিনি বলেন, ‘জেলিফিশ আসলে অসাধারণ প্রাণী, কারণ, তারা পৃথিবীর প্রাচীনতম বহুকোষী প্রাণীগুলির মধ্যে পড়ে৷ অর্থাৎ, তাদের বেঁচে থাকার কৌশল অত্যন্ত কার্যকরী৷ সেই কৌশল পরীক্ষা করে বুঝতে পারলে বিবর্তনের ক্ষেত্রে সফল ও স্থিতিশীল জীবদের সম্পর্কে অনেক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে৷’

গবেষকরা হ্রদের মধ্যে জেলিফিশের পরিবেশ সম্পর্কে আরো জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করছেন৷ জেলিফিশের শরীরের প্রায় ৯৯ শতাংশই আসলে পানি৷ জীববিজ্ঞানীরা তাদের রহস্য এখনো ভেদ করতে পারছেন না৷

জেলিফিশের সম্প্রসারণের পথ ও তাদের জেনেটিক গঠন সম্পর্কে আরো জানতে গবেষকরা হ্রদের পানির নীচে পাথরও সংগ্রহ করছেন৷ সেগুলির উপর ক্ষুদ্র অ্যাডেনয়েড পাওয়া যায়, যা আসলে জেলিফিশের আগের অবস্থা৷ জেলিফিশের এই আদি রূপের আকার এক মিলিমটারেরও কম৷ শুধু মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমেই তা দেখা যায়৷

জেলিফিশ কীভাবে একটি জলাশয় থেকে আরেকটি জলাশয়ে চলে যায়, তা এখনো জানা যায়নি৷ তবে পাখির মাধ্যমে তাদের প্রসার ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে৷ জেলিফিশের আদি রূপ সম্পর্কেও বেশি কিছু জানা যায়নি৷ মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবিনে গিসলার মনে করেন, ‘জেলিফিশের জীবন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ রয়েছে৷ তার মধ্যে অ্যাডেনয়েড স্তরে জেলিফিশ সৃষ্টি হয়৷ উষ্ণ তাপমাত্রায়ই সেই প্রক্রিয়া ঘটে৷ গ্রীষ্মকাল যত উষ্ণ হয়, জেলিফিশের সংখ্যাও সেই অনুযায়ী বেড়ে যায়৷’

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে এবং জেলিফিশের দাপট বাড়ছে৷ তারা বিশাল পরিমাণ প্ল্যাংকটন খেয়ে ফেলছে৷ ফলে শেষে অ্যালজি বা জলজ উদ্ভিদের সুবিধা হচ্ছে৷ কারণ, এতদিন প্ল্যাংকটনই তাদের খেয়ে ফেলতো৷ কাটরিন শাখটেলের জন্য এমন এক পরিস্থিতি হ্রদগুলির ইকোসিস্টেমের উপর প্রভাবের একাধিক সম্ভাবনার অন্যতম৷ কারণ, এখনো এই প্রাণী সম্পর্কে অনেক কিছু জানা বাকি রয়েছে৷

ঢাকাটাইমস/২৫অক্টোবর/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত