দিনাজপুরে বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের জন্য হাহাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৭, ১৫:১৯ | প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট ২০১৭, ১১:৫৫

দিনাজপুরের বন্যার পানি নেমে গেলেও জেলার ২১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪১ হাজার ৬৫০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছে। তারা খাবারের চেয়ে বেশি কষ্টে আছে বিশুদ্ধ পানির অভাবে। এত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবার পানির ব্যবস্থা করা যায়নি।

আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে যারা এলাকায় ফিরেছেন বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানে পানির সংকট আরও বেশি। কারণ, সেখানে হয় পর্যন্ত নলকূপ নেই, অথবা যে নলকূপগুলো ছিল, সেগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আপাতত সেগুলোর পানি সরাসরি পান করার অবস্থায় নেই।

এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ হিসেবে খাবারের পাশাপাশি পানির পিপাসা পেটানোই বড় চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গতদের মধ্যে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট একটি ভাল বিকল্প হতে পারে বিধায় এর অপেক্ষায় তারা।

বিশুদ্ধ পানির অভাবে বন্যার পানিই হালকা ফুটিয়ে বা সরাসরি পান করে পেটের পীড়াসহ নানা রোগ বলাই ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।

জেলায় সরকারিভাবে ১২৫টি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে আরও সমসংখ্যক ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প চলছে। কিন্তু সেগুলোও পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণিত হচ্ছে না।

দিনাজপুরে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সরকারি হিসাবে ছয় লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ির নষ্ট হয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৯টি। বন্যার কারণে দিনাজপুরে গত ছয় দিনে মারা গেছেন ৩১ জন। এ তথ্য দিয়েছেন, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, জেলায় এক লাখ ২৬ হাজার হেক্টর ফসসি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে কয়েকশ একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

বন্যার জেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তা, সড়ক, মহাসড়ক বিধ্বস্ত হওয়ায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জসহ বেশকিছু সড়কে যান চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে দিনাজপুরের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ।

রেলওয়ের দিনাজপুরের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাকিব হাসান জানান, বন্যায় পানির স্রোতে দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও রেলপথের দুইটি স্থানে এবং দিনাজপুর-পাবর্তীপুর রেলপথের আরও দুইটি স্থানে রেল স্লিপারের নিচের পাথর ও মাটি সড়ে গেছে, বেঁকে গেছে রেল লাইন। রেলপথ সংস্কারের কাজ শুরু করা হলেও কবে নাগাদ রেল চলাচল স্বাভাবিক হবে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

এদিকে করতোয়া নদী’র বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার এক নং বুলাকিপুর এবং তিন নং সিংড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা নতুন করে বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে।

ঢাকাটাইমস/১৯আগস্ট/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :