‘দুর্নীতি, যানজট প্রবৃদ্ধির অর্ধেক খেয়ে ফেলছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:২৯ | প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৫৮

দুর্নীতি ও যানজটের কারণে অর্থনীতির ব্যাপক পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একজন অর্থনীতিবিদ। তিনি জানান, এই দুই সমস্যায় জিডিপির চার শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

নতুন কোনো উদ্যোগ না নিয়েও কেবল এই দুটি সমস্যার সমাধান করতে পারলেই জিডিপির প্রবৃদ্ধি দুইয়ের অংকে নেয়া সম্ভব বলেও জানান ওই অর্থনীতিবিদণ

রবিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের এসডিজি অর্জন: ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা এসব কথা বলেন।

এই অর্থনীতি বলেন, ‘অর্থনীতিতে দুর্নীতির কারণে জিডিপির দুই শতাংশ ক্ষতি হয়। আর যানজটের কারণে ক্ষতি আরও দুই শতাংশ। এ দুটি বন্ধ হলে জিডিপি চার শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ১১ শতাংশের বেশি। এদিক বিবেচনায় এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে দুর্নীতি এবং যানজট দুটোকে কমিয়ে আনতে হবে।’

এই অর্থনীতিবিদের হিসাবে বাংলাদেশে গত অর্থবছরে যে হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, তার অর্ধেকের বেশি খেয়ে ফেলছে দুর্নীতি ও যানজট। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৭.৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা জানিয়েছে পরিসংখ্যার ব্যুরো।

সেমিনারে ব্যাংকিং খাতের আশানুরুপ বিকাশ হয়নি বলে আক্ষেপের কথাও জানানো হয়। একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে জানানো হয়, শ্রীলঙ্কার ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষের ব্যাংক হিসাব আছে, সেখানে বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশের একটু বেশি। ভারতে এর পরিমাণ ৫৩ শতাংশ।

মালয়েশিয়ার প্রায় ৩১ শতাংশের বেতন হয় ব্যাংকে, বাংলাদেশের মাত্র ১.৬ শতাংশ।  শ্রীলঙ্কার ৭ শতাংশের বেশি সরকারি-বেসরকারি কর্মীর বেতন পায় ব্যাংকের মাধ্যমে।

সেমিনারে বলা হয়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। একইভাবে ডেবিট কার্ড ব্যবহার, সঞ্চয়, আর্থিক অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পরামর্শ দেন বক্তারা।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক (ডিএসবিএম)মহিউদ্দিন সিদ্দিকী। গবেষণা দলে আরও ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এবং বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য আব্দুল কাইউম; বিআইবিএমের তিন সহকারী অধ্যাপক তানবীর মেহদী,  তাহমিনা রহমান ও অন্তরা জেরিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রিফর্মস অ্যাডভাইজর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী বলেন, এসডিজি তথা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় স্কুল ব্যাংকিং, কৃষকের ১০ টাকার হিসাব এবং এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে। এ সম্পৃক্ততা এসডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যাতে পর্যাপ্ত ঋণ সেদিকেও নজর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সাবেক চেয়ার প্রফেসর এস এ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকগুলোর ঋণের ৮৫ শতাংশ ঢাকা এবং চট্টগ্রামে দেওয়া হয়। এটি এসডিজি অর্জনে বড় অন্তরায়।

‘বেনামি ঋণও এসডিজি অর্জনে একটি বাঁধা। একই সঙ্গে ব্যাংক অর্থায়নের লিঙ্গ বৈষম্য প্রকট। এটি দূর করে ব্যাংকিং খাতের ৩০ শতাংশ নারী কর্মী হতে পারে।’

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, প্রকৃত কৃষকরা যাতে ঋণ পায় সেদিকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সর্বোচ্চ নজরদারি করছে। প্রকৃত কৃষকদের হাতে ঋণ দিতে পারলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অনেকাংশে বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, টেকসই উন্নয়নে ব্রাঞ্চ ব্যাংকিংয়ের চেয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ওপর জোর দিতে হবে। আর্থিক অর্ন্তভুক্তির জন্য প্রতি পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে একটি করে ব্যাংকের শাখা খোলার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তা লাভজনক না হওয়ায় বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এজন্য ব্যাংক গুলোকে প্রয়োজনে এজেন্ট ব্যাংকিং ভর্তুকি দিয়ে আর্থিক অর্ন্তভুক্তি করতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/৯সেপ্টেম্বর/জেআর/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :