ফরিদপুর-২ আসন

প্রবীণ-নবীন নারীর লড়াই

মফিজুর রহমান শিপন, ফরিদপুর
 | প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:৩৬

১৯৯১ সাল থেকে ‘তারকাযুদ্ধের’ আসন বলে পরিচিত ছিল ফরিদপুর-২। একদিকে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরকারের কয়েকবারের প্রভাবশালী মন্ত্রী বা সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী; অন্যদিকে ছিলেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান। তিনিও বেশ কয়েকবার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার শাসনামল পর্যন্ত, ছিলেন ১৯৭০-৭৩-৭৯ সালের এমপিও।

একানব্বই থেকে একবার সাজেদা জিতলেও দুবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন ওবায়েদ। হাড্ডাহাড্ডি ভোটের লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ও নির্ধারিত হয়ে আসছিল স্বল্প ব্যবধানে। তবে ওবায়েদের মৃত্যুর কারণে ২০০৮ সাল থেকে নৌকার প্রার্থী সাজেদা চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী পাল্টে গেছে। বিএনপির ধানের শীষের কান্ডারি হয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, যিনি প্রয়াত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বাবার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা এবার দ্বিতীয়বারের মতো লড়ছেন বর্ষীয়ান জননেত্রী সাজেদার বিরুদ্ধে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা উপজেলা ও সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন) আসনে প্রার্থী চারজন থাকলেও এবারও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই দুই নারী প্রার্থীর মধ্যেই।

আবার শারীরিক অসুস্থতায় এবারের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় তেমন একটা অংশ নিতে পারছেন না সাজেদা চৌধুরী। তার হয়ে কাজ করছেন ছোট ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরী ও মেজো ছেলে সাজিদ আকবর চৌধুরী। শাহদাব মায়ের প্রধান নির্বাচনী এজেন্টও।

ফলে ভোটের মাঠে একসময়ের দুই ‘তারকা প্রার্থী’র লড়াই কাকতালীয়ভাবে পরিণত হয়েছে সন্তান বা উত্তরাধিকারীদের প্রচারণাযুদ্ধেও।

‘কে হারে কে জেতে’Ñএমন টানটান উত্তেজনা আর নির্বাচনী উৎসবে মাতা নগরকান্দা-সালথা আর সদরপুরের একটি ইউনিয়নে প্রার্থীদের শেষ সময়ের প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। উঠান বৈঠক, পথসভা, গণসংযোগ, ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা ভোট চাইছেন নিজ নিজ প্রতীকে। ভোটাররাও বাজারে, চায়ের দোকানে, রাস্তায়, মাঠে সর্বক্ষেত্রে চুলচেরা বিশ্লেষণে মেতে উঠেছেন।

প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুক্তিযুদ্ধের নারী সংগঠক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৮৬ সাল থেকে এ আসনে নৌকার মাঝি হলেও ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে হেরে যান তিনি। জয়ী হন কে এম ওবায়দুর রহমান। তবে ছিয়ানব্বইয়ের আওয়ামী লীগের সরকারে বন ও পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে ওইবার এবং ২০০১ সালে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে আবারও সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন সাজেদা। সেই থেকে গত ১০ বছর ধরে সংসদ উপনেতার দায়িত্ব পালন করে আসছেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী এই জননেত্রী।

২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শামা ওবায়েদ। সেবার অবশ্য পরস্পরকে ‘মা-মেয়ের মতো’ আখ্যা দিয়ে লড়াইয়ে নামা এই দুই প্রবীণ-নবীন নারীর জয়-পরাজয়ের ব্যবধান অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। তার পরও ভোটের আগে-পরে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আদর-স্নেহসুলভ আচরণ দিয়ে নবীন শামাকে ‘প্রতিশ্রুতিশীল নেত্রী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন অর্ধশতাধিক বছরের পোড় খাওয়া ত্যাগী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রবীণ সাজেদা।

এবার বয়সে তারুণ্যের ছাপ বাড়লেও শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুকে সাজেদার বিপরীতে নবীন বলেই ভাবছেন ভোটার-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রথমবার সদ্য প্রয়াত বাবার ইমেজে সহানুভূতির ভোট চাইলেও এবার কেন্দ্রীয় বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক বাবার আদর্শ নিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লক্ষ্যের কথা বলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

সাজেদা চৌধুরীর ছেলে ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শাহদাব আকবর চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এলাকার মানুষ দৃঢ়তার সঙ্গে নৌকা ও সাজেদার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নগরকান্দা ও সালথায় আজ যে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি, সবই সম্ভব হয়েছে তার জন্য।’

শামা ওবায়েদ অবশ্য অভিযোগ করে বলেন, ‘ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। আমাকে নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রতিনিয়ত আমার দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারসহ হয়রানি করছে। তাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, ভয়ে রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছেন না।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া জানান, ফরিদপুর-২ আসনে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৩ জন ভোটার ১২৩টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :