নারায়ণগঞ্জ-৫

সেলিমের রাজ্যে নিঃসঙ্গ আকরাম

সৈয়দ ঋয়াদ ও মাজহারুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ থেকে
 | প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৫৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ যতটা সরব, ঠিক ততটাই নীরব বিএনপি। ভোটের মাঠে বিএনপির উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়েনি। কোথাও নেই তাদের পোস্টার ব্যানার, ছিল না মাইকিং। গত বৃহস্পতিবার আসনটিতে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার দুটি ও বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও ১৭টি ওয়ার্ড (১১ থেকে ২৭) নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬১৬। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ৪০২। আর পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজার ২১৪।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক ঐক্যে যোগ দেওয়া সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম।

আগের বেশ কয়েকটি নির্বাচনে আসনটিতে তুমুল লড়াই হলেও এবারের দৃশ্যটা একটু ভিন্ন। নির্বাচনী প্রচারণায় মহাজোটের প্রার্থী দিনরাত প্রতিটি পাড়া চষে বেড়ালেও ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণা ছিল না বললেই চলে। সরেজমিনে আসনটির বেশ কিছু এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষারা মোড় থেকে শুরু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। শহরে প্রবেশের মুখে রাস্তার পাশে একটু পরপরই চোখে পড়ে কয়েকটি নির্বাচনী ক্যাম্প অফিস। এসব অফিসকে ঘিরে আছে লোকসমাগমও। সবগুলো অফিসই জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের।

শুধু নগরীর প্রবেশমুখেই নয়, এমন দৃশ্য দেখা গেছে শহরজুড়েই। অলিগলি থেকে শুরু করে পুরো শহরের রাস্তায় ঝুলছে লাঙ্গলের পোস্টার, ব্যানার। অনেক দেয়ালেও দেখা গেছে লাঙ্গলের প্রার্থীর পোস্টার। নগরীতে অনেক স্থানে দেখা গেছে লাঙ্গলের নির্বাচনী কার্যালয়। এর বিপরীতে বিএনপির চিত্র পুরোপুরি উল্টো। নির্বাচনী এলাকার বেশ কিছু এলাকা ঘুরেও চোখে পড়েনি তাদের নির্বাচনী প্রচারণার কোনো পোস্টার বা ব্যানার। দেখা যায়নি নির্বাচনী কার্যালয়। এমনকি বিএনপির প্রার্থীর রয়েল ট্যাঙ্ক রোডের থানা পুকুরপাড়ের বাড়ির সামনেও দেখা মেলেনি ধানের শীষের কোনো পোস্টার। সেখানেও ঝুলছে লাঙ্গলের পোস্টার। তবে আকরামের বাড়িতে গিয়ে কিছু পোস্টার চোখে পড়েছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য আকরামের বাড়িতে একটি নির্বাচনী ক্যাম্প করা হলেও সেখানে কোনো কর্মী-সমর্থক চোখে পড়েনি।

জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থীর অফিসের কেন্দ্র সমন্বয়ক আবু হানিফ খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মামলা-হামলার ভয়ে অনেকেই ক্যাম্প অফিসে আসেন না। এ জন্য প্রচার-প্রচারণায় লোক পাওয়া যায় না।’ এ ছাড়া দলীয় দ্বিধাবিভক্তির কারণেও অনেক নেতাকর্মী কাজ করছেন না বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ ছেড়ে ধানের শীষের প্রতীকে লড়ে কতটা সুবিধা করতে পারবেন জানতে চাওয়া হয় এস এম আকরামের কাছে। উত্তরে ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের আসনের মানুষ আমাকেই পছন্দ করেন। তারা আমাকেই ভোট দেবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জয়ী হতে আশাবাদী।’ স্থানীয় অনেকে জানান, আসনটিতে বিএনপির ভালো ভোটব্যাংক আছে। এর পাশাপাশি আকরামের নিজস্ব ভোটব্যাংক ও সমর্থক গোষ্ঠী থাকায় নির্বাচনে তা প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে আসনটিতে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী লাঙ্গলের প্রার্থী সেলিম ওসমানও। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আকরামের বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম ওসমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘তিনি (আকরাম) যে ধানের শীষ নিয়ে এসেছেন, তাতে চিটা আছে। এটা আসল ধান নয়। এই ধানে জনগণ সন্তুষ্ট হবে না।’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বিপুল ভোটেই জিতবেন বলে আশাবাদী মহাজোটের এই প্রার্থী।

এলাকাবাসীর ভাবনা

বন্দর এলাকার রূপনগরে কথা হয় কয়েকজনের সঙ্গে। কেমন প্রার্থী পছন্দ জানতে চাওয়া হয় তাদের কাছে। তাদের মধ্যে মোখলেস নামের একজন বলেন, ‘যিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন, আমরা তাকেই ভোট দেব।’ তার মতো সেখানে থাকা অনেকেই তার সঙ্গে মত দেন।

কথা হয় রেবেকা বেগম নামের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের এক ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষিকার সঙ্গে। কেমন প্রার্থী চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন চাই। যারা উন্নয়ন করবে, আমরা তাদেরই ভোট দেব।’ এ ছাড়া প্রার্থীদের কাছে নারীর নিরাপত্তা বিষয়টি নিশ্চিত চান এই স্কুলশিক্ষিকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :