সুনামগঞ্জের ভুট্টায় হচ্ছে আটা-ময়দা, যাচ্ছে সারা দেশে

সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০৮:৩২

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলাগুলোতে রপ্তানিসহ সুনামগঞ্জে উৎপাদিত ভুট্টা দিয়ে ময়দা, সাদা আটা, ফিসফিড, পোলট্রিফিড ও পপকর্ন তৈরি হচ্ছে। ভুট্টার গাছ জ্বালানি ও পাতা গো-খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হওয়ায় পুষ্টিকর এই খাদ্যশস্য আবাদ ও বিক্রি করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। তাই দিন দিন শীতকালীন ভুট্টা আবাদে আগ্রহও বাড়ছে তাদের।

চাষিরা বলছেন, সারা বছর ভুট্টার চাষ করা গেলেও শীতে ফলন ভালো হয়। জেলার ১১টি উপজেলায়ই এবার আবাদ বেড়েছে, বেশি চাষ হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায়। এবার দেরিতে গত জানুয়ারি মাসে রোপন করলেও আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়েই ভুট্টা ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তারা।

চাষিরা আরও জানান, ৫-৬ হাজার টাকা করে খরচ করে প্রতি কেয়ার (তিন কেয়ারে এক একর) জমিতে ভুট্টা উৎপাদিত হয় ৩০-৩৫ মণ। প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হয় ৬০০-৭০০ টাকায়। ফলে লাভ হয় প্রায় দ্বিগুণ।

স্থানীয় মিলগুলোতে এখন সুনামগঞ্জের ভুট্টা দিয়েই আটা-ময়দা হয় বলে উল্লেখ করে তারা বলেন, গত বছর এ জেলার ভুট্টা বিক্রি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। এবার চাষ বাড়ায় ফলন বাড়বে। ফলে আরও অনেক জায়গায় পাঠাতে পারবেন বলেও মনে করছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বশির আহমদ বলেন, গতবারের তুলনায় বেশি সার ও বীজ প্রণোদনা পেয়ে এ বছর চাষিদের মাঝে ভুট্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে সাতগুণ বেশি।

তিনি জানান, গত বছর জেলায় ভুট্টার চাষ হয়েছিল ২০০ কেয়ার জমিতে, এবার হয়েছে এক হাজার ৪০০ কেয়ারে। পতিত জমি আবাদেও উদ্বুদ্ধ করতে ভুট্টাচাষিদের প্রতি কেয়ারে দুই কেজি বীজ ও ৪০ কেজি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরের  বেশ কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, চাষিদের কাছ থেকে উৎপাদিত ভুট্টা কিনে স্থানীয়রা মিলে ভাঙ্গিয়ে এবং মিলাররা স্থানীয় ভুট্টা দিয়েই আটা-ময়দা তৈরি করছেন। খুচরা ব্যবসায়ীরাও পপকর্ন তৈরি ও বিক্রি করেন বিভিন্ন হাট-বাজারে।

বিশ্বম্ভরপুরের ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি সীমান্ত এলাকায় এবার ১৭ জন চাষী যৌথভাবে ২০ কেয়ার জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। আবুল বাশার, রফিক উদ্দিন, সুলতান মিয়া ও সিদ্দিক মিয়াসহ তাদের কয়েকজন জানান, এই ভুট্টার ছোলা এখন হাঁস-মুরগির খাবার হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। এ বছর জেলা শহরসহ আশপাশের বাজারে পপকর্ন বিক্রিও বেড়েছে। তাই গতবারের চেয়ে বেশি লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুছ ছালাম বলেন, ‘সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। ২০০ জন কৃষককে সার-বীজ প্রনোদনা দিয়েছি। এবার মাঠের অবস্থা খুবই ভালো। প্রতি কেয়ারে ৩০ মণ উৎপন্ন হবে।’ বালিজুরী মেঞ্জারগাঁও গ্রামের ২১০ কেয়ার (৭০ একর) জমিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাতজন কৃষক ভুট্টার চাষ করেছেন। তাদের মধ্যে সুমন মিয়া, রীনা বেগম ও ফুল বানু বলেন, গত বছরের তুলনায় এই এলাকায় এবার অনেক বেশি জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। ভুট্টা চাষে উৎপাদন ভালো, লাভের পরিমাণও বেশি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকেও প্রণোদনা পেয়ে তাদের আগ্রহ ও আবাদ বেড়েছে।

(ঢাকাটাইমস/০৩মার্চ/প্রতিবেদক/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :