ডাকসুতে পুনঃভোটের সুযোগ নেই: ঢাবি কর্তৃপক্ষ

ঢাবি প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ১৫:০৭ | প্রকাশিত : ১২ মার্চ ২০১৯, ১৫:০৪

বিচ্ছিন্ন নানা ঘটনার মধ্যে সদ্যসমাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি ‘তথ্যানুসন্ধান দল’করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। বহুল প্রতিক্ষীত এ নির্বাচন বাতিল করে আবার পুনঃভোট দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ।

ভোটের পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

এর আগে দুপুরে ঢাবি উপাচার্য আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন হয়ে গেছে। ফলাফলও ঘোষণা হয়েছে। আমাদের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও ডাকসুর গঠনতন্ত্র- এগুলো নিয়ে চলতে হবে।’

ডাকসু ও হল সংসদগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচন সোমবার শেষ হয় অনিয়মের নানা অভিযোগ এবং অধিকাংশ প্যানেলের প্রার্থীদের বর্জনের মধ্যে দিয়ে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্যানেলগুলো অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে পুনঃভোটের দাবিতে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রদল, বাম জোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দুটি প্যানেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে পুননির্বাচনের দাবি জানায়।

উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ পুনঃভোটের দাবি সরাসরি নাকচ করে বলেন, ‘নির্বাচন নতুন করে হওয়ার কোনো সুযোগ আর নেই।’

ডাকসুতে ভিপি ছাড়া সবগুলো পদেই জয়ী হয়েছেন সরকার সমর্থক সংগঠন ছাত্রলীগের প্রার্থীরা। ভিপি পদে পরাজয় মানতে না পেরে মঙ্গলবার সকাল থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন সংগঠনটির একাংশ।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নূরুল হক নূরকে ভিপি পদে জয়ী করতে ‘অনেক বড় জালিয়াতি’হয়েছে অভিযোগ করে শুধু ওই পদে পুনর্নির্বাচনের দাবি তাদের।

অন্যদিকে বাম জোট, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোটও ক্যাম্পাসে আলাদাভাবে মিছিল সমাবেশ করছে। তাদের ডাকে মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ভোট চলাকালে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি ব্যালট এবং রোকেয়া হলে ট্রাংক ভর্তি ব্যালট পাওয়ার বিষয়ে উপ উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুটি হলের একটিতে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি।’

‘তবে অপর একটি হলে (রোকেয়া হলে) যা হয়েছে, সেটি ছিল হাঙ্গামা। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।’

নির্বাচনে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তদন্তে ‘তথ্যানুসন্ধান দল’প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই তদন্ত দল অল্প কিছু দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।’

কোটা আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হোসেন নূরুকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ভিপি পদে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ছাত্রলীগের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক সামাদ বলেন, ‘অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে ভোট গণণা হয়েছে। এখানে এই অভিযোগের কোনো সুযোগ নেই।’

‘মেশিনে ভোট গণনা করা হয়েছে। সুতরাং এখানে কারচুপি হয়েছে তা কেউ বিশ্বাস করবে না। আর যারা ডাকসু নির্বাচন বর্জন করেছেন, সেটা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি।’

ঢাকাটাইমস/১২মার্চ/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :