মানিকগঞ্জে শিশুর লাশ উদ্ধার, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি,ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৯, ২১:৪৬

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সুজয় দেবনাথ (৫) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় উত্তেজিত গ্রামবাসী শিশুটির চাচা-চাচিকে মারধর ও বাড়িতে হামলা করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা শুরু করলে গ্রামবাসী পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্পদের লোভে চাচা-চাচি শিশুটিকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেন। এর আগে শিশুটির বোনকে পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়।

নিহত শিশু সুজয় উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের কাকুরিয়া গ্রামের ইতালীপ্রবাসী সঞ্জয় দেবনাথের ছেলে। সে সোমবার দুপুরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর ধরে সঞ্জয় দেবনাথ ইতালি থাকেন। তিনি বাড়িতে ছুটিতে আসেন এবং প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আবার ইতালি চলে যান। গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ছেলে সুজয়কে বাড়িতে রেখে মা বাসন্তী দেবনাথ পুকুরে গোসল করতে যান। গোসল সেরে বাড়িতে এসে সুজয়কে না পেয়ে তিনি বাড়ির আশপাশ এবং গ্রামের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও শিশুটির খোঁজ না পেয়ে ওই দিনই চাচা রঞ্জিত দেবনাথ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এরপর আজ  সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরে শিশুটির লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী। এরপর গ্রামবাসী শিশুটির চাচার রঞ্জিতের বাড়িতে হামলা করে। এতে রঞ্জিত, শিশুটির চাচি নিপা দেবনাথ ও দাদি মায়া রানি দেবনাথ আহত হন। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটি লাশ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ আহতদের হেফাজতে নেন। এ সময় উত্তেজিত গ্রামবাসী তাদের ওপর আবার হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে। এ সময় গ্রামবাসী ইটপাটখেল নিক্ষেপ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর পুলিশ শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং শিশুটির চাচা ও দাদিকে থানায় নিয়ে যান। পরে আহত অবস্থায় মায়া রানিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হানিফ সরকার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে (শিশুটির চাচা, চাচি ও দাদি) আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা করা হবে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশকে মারধর, গাড়ি ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে অপর মামলাটি করা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২১মার্চ/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :