শিক্ষকের যৌন হয়রানি: উত্তাল গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:২৩

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের এক শিক্ষকের  বিরুদ্ধে দুই ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইউটিউব ও ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে বিভিন্ন পোষ্ট ভাসছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বলেছেন তাকে শিক্ষক পলিটিক্সের শিকার হতে হয়েছে।

এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে রবিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে দুই ছাত্রী যৌন হয়রানি অভিযোগ উঠে গত ডিসেম্বরে। তারা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। কিন্তু, তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করা হয় বলে দুই ছাত্রী অভিযোগ করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরলে আলোচনায় উঠে আসে পুনরায়। এ বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলার সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

যৌন নিপীড়নের শিকার দুই শিক্ষার্থী জানান, ওই শিক্ষক কৌশলে দুই শিক্ষার্থীসহ তিন শিক্ষার্থীর থিসিসের দায়িত্ব নেন। এরপর বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষক তাদের বাসায় ও ব্যক্তিগত চেম্বারে ডাকতেন এবং শরীর স্পর্শ করতেন। মোবাইল ফোনে ডেকে এনে তাদের কুপ্রস্তাব দিতেন। পরীক্ষার ফেল করিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি এ সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করতেন। ফাইনাল পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভিসি প্রফেসর খোন্দকার  নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়।

তারা আরও জানান, সম্প্রতি তাদের অভিযোগপত্র কে বা কারা ফেসবুকে পোস্ট করে দেয়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য লেখে এ ঘটনার নিন্দা জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান,  বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক নারীঘটিত ঘটনা ঘটার পর সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলছে। তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান। আর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলেও জানান।

অভিযুক্ত শিক্ষক আক্কাস আলী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্সের শিকার হয়েছেন। একই বিভাগের অন্য শিক্ষক জামাল উদ্দিনের সঙ্গে বিভাগীয় প্রধান হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলে আসছিল। এরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি শিক্ষার্থী দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন আব্দুল কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর খোন্দকার নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ব্যপারে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/০৭এপ্রিল/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :