ভারতে ‘নোট পাচারকারী’ বাংলাদেশ ব্যাংকে পুনর্বহাল

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৯, ০৯:৪৮

ভারতে নতুন নোট পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সিবিএ নেতা বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছেন। গত ১০ জুন তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে আনা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর বেনাপোল চেকপোস্টের নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা থেকে ৩০ বান্ডেল দুই টাকার নতুন নোট এবং ৪৮ বান্ডেল পাঁচ টাকার নতুন নোট উদ্ধার করে র‌্যাব। একই বছরের ২৩ অক্টোবর ১০ বান্ডেল দুই টাকার নতুন নোট উদ্ধার করে বিজিবি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হলে বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখা সিবিএর সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মোল্লার নাম উঠে আসে।

তখন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাওয়া হয়। আর নোট পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের ২ জানুয়ারি তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

তিন মাস যেতে না যেতেই ফের চাকরিতে পুনর্বহালের চেষ্টা শুরু করেন হুমায়ুন কবির। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আবদুল আজিজ এবং খুলনা কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোশাররফ হোসেন খানের মধ্যস্ততায় তিনি চাকরি ফেরত পেয়েছেন বলে তথ্য মিলেছে। কিন্তু এ ঘটনার পেছনে ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নিজে জড়িত থাকায় কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না। এর আগেও নানা ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন হুমায়ুন কবীর।

২০০৪ সালে দৈনিক ভিত্তিতে চাকরি করার সময় টেলিফোন চুরির দায়ে তার চাকরি চলে যায়। পরে কর্মকর্তাদের কাছে অনেক অনুনয়-বিনয় করে চাকরি ফিরে পান। সিবিএ নেতা হওয়ার পর ডিউটি শাখায় পোস্টিং নিয়ে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এক নারীর সঙ্গে হাতেনাতে ধরা পড়ায় তাকে ওই শাখা থেকে সরিয়ে কেয়ারটেকার করা হয়। সেখানে গিয়েও কোয়ার্টার ভাড়া বাণিজ্যে জড়ানোর অভিযোগ উঠে।  ২০১৭ সালে তার ছয় মাসের ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, সিবিএর প্রভাব খাটিয়ে ছুটি ছাড়া বাড়ি চলে যাওয়া, দুই-তিন দিন পর এসে হাজিরা খাতায় সই করা, ব্যাংক ঋণের জন্য ঘুষ, ওভার টাইমের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য অর্থগ্রহণ এবং ওভারটাইমের টাকা থেকেও অর্থ দিতে হতো হুমায়ুন কবিরকে। ব্যাংকের ভেতরে কয়েন ব্যবসাও চালু করেন তিনি। তার কয়েন কেনার জন্য ব্যাংকের ভেতরে আলাদা কাউন্টার খোলা হয়েছিল। তার ভাইকেও যুক্ত করেন নতুন নোটের ব্যবসায়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মোল্লা বলেন, ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে অবসরে পাঠানো হয়। আমি নির্দোষ ছিলাম, এজন্য আমাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা।’

এই পুনর্বহালের পেছনে নিজের হাত অস্বীকার করেছেন ব্যাংকের খুলনা কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোশাররফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘যারা এসব বলেছে তারা মিথ্যা বলেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকাটাইমস/২০জুন/আরএ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :